বনগাঁয় সাহিত্য পত্রের প্রকাশ উপলক্ষে সাহিত্য বাসর ও কবি সম্মেলন

নীরেশ ভৌমিক : কবি বিনয় মজুমদারের ৯৩ তম জন্মবর্ষে বাল্মিকী সাহিত্য পত্রের কর্ণধার লালমোহন বিশ্বাস কাব্য ও সাহিত্য প্রেমী গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস ও স্মরজিৎ অধিকারীর উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় গত ১৪ ডিসেম্বর বনগাঁর চাপাবেড়িয়া জগৎ মাতা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এক সাহিত্য বাসর ও কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন সকালে মঙ্গলদীপ প্রোজ্জ্বলন করে আয়োজিত সাহিত্য বাসরের উদ্বোধন করেন প্রথিতযশা সাহিত্যিক নিরঞ্জন কুমার রায়। কবি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি বিভাস রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে স্কুল ছাত্রী অর্চিতা বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান কবি কমল দে শিকদার, ডঃ সুপ্রিয়া দত্ত, অধ্যাপক তন্ময় বিশ্বাস, সমাজকর্মী কালিপদ সরকার, শঙ্কর কুমার ধর, শিক্ষক মদনমোহন মন্ডল, কবি আব্দুল সাত্তার মন্ডল, শুভঙ্কর সাহা, প্রখ্যাত গায়ক ও অভিনেতা মানস ভৌমিক, ডাঃ রজত কর্মকার, ছিলেন মুদ্রণ জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চন্ডীদাস বিশ্বাস প্রমূখ।

এদিনের সাহিত্য বাসরে গোপালচন্দ্র বিশ্বাস প্রণীত ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’ ও স্মরজিৎ অধিকারী সম্পাদিত ‘গগনে গরজে মেঘ’ গ্রন্থ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে অতীত দিনের পত্রিকা সম্পাদিকা প্রতিমা পোদ্মার স্মৃতি সম্মান প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কবি ও চিকিৎসক আশিস কান্তি হীরা ও বর্ষিয়ান আইনজীবী স্বপন মুখার্জীকে।

কবি শংকর মল্লিককে এদিন বাল্মিকী সম্মানে ভূষিত করা হয়। বাল্মিকী প্রদত্ত ‘ফিরে এসো চাকা’ সম্মান ২০২৫ প্রদান করা হয় স্বনামধন্য কবি পিনাকী বসুকে। বিনয় মজুমদার স্মারক বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে মনোজ্ঞ ভাষণ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুস্তাক আহমেদ।

‘দিব্যভূমি আমার স্বদেশ’ বিষয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্ট কবি আশিস কান্তি হীরা। রাজ্য শিক্ষা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত উপ-অধিকর্তা ডঃ দিব্য গোপাল ঘটক মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান। আমাদের জাতিসত্তাকে ধরে রাখতে এবং বাংলা ভাষার অস্মিতা ও

মর্যাদা রক্ষায় দেশের সর্বত্র এ ধরনের কাব্য ও সাহিত্যচর্চা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করার আহ্বান জানান দিব্য গোপাল বাবু সহ অন্যান্য কবি সাহিত্যিক’গণ। সাহিত্য বাসরে গান গেয়ে শোনান প্রখ্যাত লোকগায়ক সত্যরঞ্জন মন্ডল, বৈশাখী সাহা, প্রবীর হালদার, অরিত্র মন্ডল।

বর্ষিয়ান আবৃত্তিকার শেফালী দত্তের কন্ঠে রবীন্দ্র কবিতা ও শিশু শিল্পী আবৃত্তি বিশ্বাসের নৃত্যশৈলী এদিনের সাহিত্য বাসরকে আকর্ষণীয় করে তোলে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কবিগণ স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান।

স্বনামধন্য কবি লালমোহন বিশ্বাস, সাহিত্য প্রেমী গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, স্মরজিৎ অধিকারী, বিথীকা বিশ্বাস, অধ্যাপিকা বসুধা বিশ্বাসের আন্তরিক প্রয়াসে এবং বিশিষ্ট কবি স্বপন কুমার বালার সুচারু সঞ্চালনায় এদিনের গ্রন্থ প্রকাশ ও গুণীজন সংবর্ধনার অনুষ্ঠান বেশ মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে।








