নীরেশ ভৌমিক : নদীয়ার চাকদহে সাংস্কৃতিক আবহে ভরপুর এক স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করল চাকদহ কলাকেন্দ্র থিয়েটার গ্রুপ। তাদের উদ্যোগে আয়োজিত চারদিনব্যাপী ‘কলাকেন্দ্র নাট্য উৎসব ২০২৬’ গত ১২ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত গণেশ জন্মনী ক্লাব মঞ্চে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

প্রতিদিনই একাধিক নাট্যদলের অংশগ্রহণে মঞ্চ আলোকিত হয়েছে নানা স্বাদের নাটকে, আর সেই সঙ্গে স্থানীয় নাট্যপ্রেমী দর্শকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি উৎসবকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব—অভিনেতা ও পরিচালক দেবাশিস সরকার, ‘গ্রুপ থিয়েটার’ পত্রিকার সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নাট্যকার শিবশঙ্কর চক্রবর্তী।

প্রথম দিনেই মঞ্চে আসে ঊহিনী, মাখলার “জীবন যাপন”, বিরাটি চেতনার “বৃষ্টি এলো” এবং ফিনিক প্রযোজিত “বিলাসী বেদনা নয়”—তিনটি ভিন্ন স্বাদের প্রযোজনা দর্শকদের মন কেড়ে নেয়।দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ১৩ মার্চ, উপস্থিত ছিলেন নাট্যজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব প্রতুল কুন্ডু ও সুভাষ মৈত্র।

সেদিনের মঞ্চে সাঁত্রাগাছি থিয়েটার পার্কের “মিথ্যের সত্যি”, ব্যান্ডেল দিশারীর “জল জীবন পানি” এবং সোদপুর উজানের “রাত ভোর বৃষ্টি” নাটকগুলি দর্শকদের ভাবনার জগতে নতুন মাত্রা যোগ করে।১৪ মার্চের সন্ধ্যায় বিরাটি সারথীর “সুবর্ণ জয়ন্তী” নাটকটির পাশাপাশি আয়োজক দল চাকদহ কলাকেন্দ্র থিয়েটার গ্রুপ তাদের নিজস্ব প্রযোজনা “স্টিয়ারিং” মঞ্চস্থ করে।

শ্যামল কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় এই নাটকটি বিশেষভাবে দর্শকদের নজর কেড়েছে।উৎসবের শেষ দিন, ১৫ মার্চ, মঞ্চস্থ হয় চন্দননগর রঙ্গপীঠের “এক মিষ্টির গল্প”, হালিশহর উত্তরসুরীর “অপহরণ” এবং হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চের “হজমশক্তি”—যা দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে এক প্রাণবন্ত আবহে।চারদিন জুড়ে বিভিন্ন নাট্যদলের অভিনয়শৈলী, বিষয়বৈচিত্র্য এবং নাট্যভাবনার সমাহার দর্শকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে। নাট্যপ্রেমী মানুষের সক্রিয় উপস্থিতি ও আন্তরিক সহযোগিতায় উৎসবটি পেয়েছে পূর্ণতা।


















Leave a Reply