নীরেশ ভৌমিক : গত ১০ জানুয়ারি প্রয়াত হন চাঁদপাড়ার ঢাকুরিয়া স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা মরণোত্তর দেহদাতা বিমান বিহারী বোস (৭৬) মৃত্যুর দিনে প্রয়াত বিমান বাবুর দুটি চোখের কর্নিয়া বাড়ি এসে নিয়ে যান দিশার প্রভা আই ব্যাংকের প্রতিনিধি,

আর দেহ তুলে দেওয়া হয় কল্যাণী এইমস এর এনাটমি বিভাগ কর্তৃপক্ষের হাতে। এলাকাবাসী প্রয়াত বিমান বাবুর এই মহতী কাজকে স্বাগত জানান। কারণ তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার দেহ ও চক্ষু দানের অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন।

যে সংগঠনের মাধ্যমে বিমানবাবুর দেহ দান করা হয় মছলন্দপুরের সেই বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রয়াত বিমান বাবুর পরিবারের মানুষজন গত ২৪ জানুয়ারি স্মরণ সভার আয়োজন করেন।

এদিন অপরাহ্নে বোস বাড়ির অঙ্গনে অনুষ্ঠিত সরণ সভায় মছলন্দপুর বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চের সদস্যগণ ছাড়াও প্রয়াত বিমান বাবুর পরিবার পরিজন সহ পাড়া-প্রতিবেশীগণ ও উপস্থিত হন।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন বর্ষিয়ান শিক্ষক কালিপদ সরকার, সাংবাদিক সরোজ কান্তি চক্রবর্তী, প্রয়াত বিমান বাবুর শুভানুধ্যায়ী তাপস বিশ্বাস, বিধান দাস, চিত্রণ বিশ্বাস, শিক্ষিকা অমেলা গায়েন, ছিলেন বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চের সভাপতি অংশুমান বিশ্বাস, সম্পাদক তপন বিশ্বাস, ডাঃ কমল সরকার, ডাঃ তাপস সরকার প্রমুখ।

প্রয়াত বিমান বাবুর সহধর্মিনী পারুল দেবী ও পুত্র বিপ্লব সাধন বোস আগত সকলকে স্বাগত জানান।বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রয়াত দেহ ও চক্ষু দাতা বিমান বাবুর প্রতিকৃতিতে ফুল-মালা অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বিজ্ঞান চেতনা মঞ্চের অর্ধেন্দু বিশ্বাস। সেই সঙ্গে মঞ্চের পক্ষ থেকে মানপত্র ও বিমান বাবুর বাঁধানো ছবি পারুল দেবীর হাতে তুলে দেন সম্পাদক তপন বিশ্বাস।

চক্ষু ও দেহ দানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রয়োজনে ও অন্ধ জনের দৃষ্টি শক্তি ফেরাতে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মানব দরদী সমাজসেবি প্রয়াত বিমান বাবুর স্মৃতিচারণায় অংশ নেন অভিন্ন হৃদয় সাথী সুধীর গায়েন,

তাপস বিশ্বাস, বিধান দাস, চিত্রন বিশ্বাস সহ কন্যা সোমা, জামাতা বিশ্বজিৎ, পুত্রবধূ রঞ্জিতা, নাতি-নাতনি বৈভব ও শ্রীজয়ী সহ আরো অনেকে। শিক্ষক সুধীর বাবুর সঞ্চালনায় এদিনের বিমান বাবুর স্মরণ সভা বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।























Leave a Reply