শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠে পালিত হলো ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর পবিত্র আবির্ভাব তিথি

পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : যিনি “The Levitating Saint” হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত – সেই মহান যোগী ভাদুড়ী মহাশয়, অর্থাৎ পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার বহন করেছিলেন তাঁর মানসপুত্র মহান যোগী ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারী। তাঁরই ত্যাগী শিষ্য ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর পবিত্র আবির্ভাব তিথি আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভক্তিভাবের সঙ্গে পালিত হলো কলকাতার শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ ও নগেন্দ্র মিশনে। এই ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারী তাঁর পরমারাধ্য গুরুদেব, সিদ্ধসাধক ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর পর শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের দ্বিতীয় মহন্তের দায়িত্ব পালন করেন। পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের যোগ-ভক্তি মার্গের প্রচার এবং প্রসারে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর পবিত্র আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে কলকাতার রামমোহন রায় রোডে অবস্থিত মঠ প্রাঙ্গণ আজ ধর্মপ্রাণ ভক্ত ও শিষ্যদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আজ এই স্মরণ অনুষ্ঠানের সূচনায় ছিল বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা ও ভজন-কীর্তন। এদিন পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ রচিত পরমার্থ সঙ্গীতাবলী পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মনে গভীর আধ্যাত্মিক আবেশের সঞ্চার করে। ছিল গুরুগান, ভজন-কীর্তনও। পরমার্থ সঙ্গীতাবলীর সামগ্রিক পরিচালনায় ছিলেন শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের সম্পাদক ডঃ রবীন্দ্রনাথ কর। আজ ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণও করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস বোস। তাঁকে সহযোগিতা করেন অশোক দত্ত। এ প্রসঙ্গে নগেন্দ্র মিশনের কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেন, এই আবির্ভাব তিথি পালন অনুষ্ঠান ভক্তদের মনে গভীর আধ্যাত্মিক প্রেরণার সঞ্চার করে। তাই এই তিথির গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম। অন্যদিকে, মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের পরিবারের পক্ষ থেকে মহর্ষিদেবের প্রপৌত্রীর পুত্র ডঃ শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর কর্ম ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের আদর্শকে সামনে রেখে তাঁর শাস্ত্রচর্চা, গ্রন্থরচনা ও জনহিতকর কর্মকাণ্ড আজও সকলের জন্য অনুপ্রেরণাস্বরূপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *