পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা আজ যেন এক তীব্র প্রত্যাশার মঞ্চ! হেলেঞ্চা গার্লস হাই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল দুয়ারে সরকার শিবির—যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত সদ্যপ্রকাশিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়।

পাশাপাশি ‘লক্ষীর ভাণ্ডার’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ফর্মও জমা নেওয়া হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।সকাল থেকেই লম্বা লাইন—কেউ কলেজপড়ুয়া, কেউ স্নাতকোত্তর, কেউ বা প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল ডিগ্রিধারী। প্রত্যেকের চোখে একরাশ অস্থিরতা, তবু আশার ঝিলিক স্পষ্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেকার যুবকের আক্ষেপ—“পশ্চিমবঙ্গে চাকরি এখন সোনার হরিণ” !! শিক্ষিত বেকারদের হতাশা দিন দিন বাড়ছে। অনেক বাড়িতেই নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে। এই বয়সে বাবা-মায়ের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার কথা, অথচ হচ্ছে একদমই উল্টোটা। অন্তত হাতখরচের জন্য তাঁদের কাছে হাত পাততে হবে না—এই আশাতেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ”তার কণ্ঠে যেমন ছিল ক্ষোভ, তেমনই ছিল কৃতজ্ঞতাও—“দিদি অন্তত আমাদের কথা ভেবেছেন।

চাকরির প্রস্তুতিতে মন দিতে পারব, এই সামান্য ভরসাটাই বড়।”এদিনের শিবিরে উপস্থিত থেকে আগতদের নানাভাবে সহায়তা করেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব—পরিতোষ কুমার সাহা, পশ্চিম ব্লক সভাপতি নিউটন বালা, স্মরজিত ঢালী, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য গৌতম মন্ডল, প্রতিমা বিশ্বাস প্রমুখ। ফর্ম পূরণে দিশা দেখানো থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা নজরে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেকার যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও আর্থিক টানাপোড়েনের আবহে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প এক বড় বার্তা বহন করছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও শাসকদলের দাবি—এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, যুবসমাজের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।হেলেঞ্চার শিবির প্রমাণ করল—প্রকল্পের কাগজে-কলমে ঘোষণা নয়, বাস্তব মাটিতে তার প্রতিফলনই শেষ কথা। আর সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই আজ হাজারো যুবক-যুবতী বলছে—“স্বপ্ন এখনও মরেনি, আমরা লড়ব !!”


















Leave a Reply