২৮ বছর পর মৃত স্বামী ফিরে এলেন বাগদায় ! SIR-এর দৌলতেই মিলন মন্ডল পরিবারের — খুশির হাওয়ায় ভাসছে মেহেরানী গ্রাম

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবের ঘটনা। বাগদা ব্লকের মেহেরানী গ্রামে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত—যে মানুষকে ২৮ বছর ধরে মৃত মনে করে শোক পালন করেছে পরিবার, শেষকৃত্যসদৃশ পরলৌকিক কর্মও সেরে ফেলেছে আত্মীয়রা, সেই জগবন্ধু মন্ডল হঠাৎই ফিরে এলেন নিজের গ্রামে ! আর এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে SIR-এর তাগিদ। ২৮ বছর আগে গুজরাটে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়ে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান জগবন্ধু মন্ডল।

যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায়। মাস গড়ায়, বছর পেরোয়, খোঁজাখুঁজির সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষপর্যন্ত পরিবার ধরে নেয়—জগবন্ধু আর নেই। মৃত ভেবে হয়ে যায় পরলৌকিক সব আনুষ্ঠানিকতাও। কিন্তু ২৮ বছর পরে বাস্তব যেন কল্পনাকে হার মানায়। SIR-এর অনুসন্ধানী তাগিদে হঠাৎই মেহেরানী গ্রামে ফিরে আসেন জগবন্ধু। গ্রামজুড়ে তখন “ভূত নাকি সত্যিই জগবন্ধুই?”—এই প্রশ্নে সবার চোখ ওঠে কপালে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দীর্ঘ সময়ে জগবন্ধু মন্ডল বাঁকুড়া জেলায় সুলেখা (রানবাজ) মন্ডল নামে এক মহিলাকে ভালোবেসে বিয়ে করে নতুন সংসার পাতেন। বাঁকুড়ার ভোটার লিস্টেও পাওয়া গেছে তার নাম। যদিও জগবন্ধু এ বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। মন্ডল পরিবারের কাছে হারিয়ে যাওয়া সময়ের হিসেব প্রায় তিন দশকের।

স্ত্রী—দীর্ঘ ২৮ বছর যাকে ‘বিধবা’ পরিচয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে, আজ সেই নারীর সিঁথিতে আবার উঠছে সিঁদুর। সেই সময়ের ছোট্ট ছেলেটি—যার কাছে বাবার মুখচ্ছবি অস্পষ্ট, শুধুই মায়ের বলা রূপকথার মতো গল্পে বাবার অস্তিত্ব খুঁজেছে—আজ সে তরতাজা যুবক। বাবাকে ফিরে পেয়ে তার চোখেও আনন্দের ঝিলিক। গ্রামজুড়ে আজ উৎসবের আমেজ। পাড়াপড়শিরা এসে ভিড় জমাচ্ছে মন্ডল বাড়িতে।তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে শঙ্কাও। অনেকেরই প্রশ্ন—“SIR-এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাবার পর আবার কি হারিয়ে যাবেন জগবন্ধু বাবু ? কর্পূরের মতো মিলিয়ে যাবেন না তো ? ”জগবন্ধুর দাবি, গুজরাটে কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীদের হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই দিশেহারার মাঝে কোনোভাবে পৌঁছে যান বাঁকুড়ায়। পরে কাজের সূত্রে চলে যান ছত্রিশগড়ের রায়পুরে। একটি সংস্থায় কাজ করছিলেন বেশ কিছুদিন, কিন্তু কোম্পানি বন্ধ হওয়ায় জীবনের অনিশ্চয়তা তাকে টেনে ফিরিয়ে আনে নিজের জন্মভিটেয়—২৮ বছর পর। আজ মেহেরানী গ্রামে শুধু একজন মানুষের নয়, একটি পরিবারের পুনর্জন্মের দিন। জগবন্ধুর ফেরা কি সত্যিই নতুন করে শুরু করার পথ খুলে দেবে—নাকি আরও রহস্য লুকিয়ে আছে তাঁর অতীতের খাতায় ? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই।








