গাইঘাটার কিশলয় তরুণ তীর্থের পড়ুয়াদের পাশে শিক্ষাব্রতী স্বরাজবাবু

নীরেশ ভৌমিক : শহর কলকাতার বাসিন্দা স্বরাজ চক্রবর্তী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাড়ি দেন। সেখানে অধ্যাপনায় যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৪০ বৎসর যাবৎ কর্মজীবন অতিবাহিত করলেও জন্মভূমি ভারতবর্ষকে কখনো ভোলেননি।

মাঝে-মধ্যেই দেশে এসেছেন। তিনি তার অভিন্ন হৃদয় সহপাঠী ও বন্ধু ডঃ অরূপ সেনগুপ্ত দুজনেই দেশের দুস্থ ও অসহায় মানুষজনের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। অরূপ বাবুর অর্থানুকূল্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গ্রন্থাগার ও পাঠ কক্ষ নির্মাণের কথা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে।উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের প্রত্যন্ত সুটিয়া অঞ্চলের গাজনা গ্রামে এলাকার সংখ্যালঘু ও

পিছিয়ে পড়া সমাজ ও পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাদানের জন্য বিগত কয়েক বছর পূর্বে গড়ে উঠেছে কিশলয় তরুণ তীর্থ। এলাকার শিক্ষা দরদী মানুষজন সেইসঙ্গে অরূপ সেনগুপ্ত ও স্বরাজ চক্রবর্তী এই দুই দয়াবান শিক্ষা ব্রতীর আর্থিক সহায়তায় বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন সহ পরিকাঠামোর ও উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

গত ২৪ নভেম্বর বিদ্যালয়ে আসেন আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী স্বরাজ চক্রবর্তী। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সুকুমারমতি ছাত্র-ছাত্রীরা শ্রী চক্রবর্তীকে স্বাগত জানান। বিদ্যালয় এর শিক্ষক ভাস্কর বসু ও সুজিত দে জানান, বিগত কয়েক বছর যাবত সমাজসেবি স্বরাজ বাবুর দেয় অর্থে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যাহ্নকালীন আহার দেওয়া হচ্ছে।

এদিন স্বরাজ বাবু এসে সবকিছু খতিয়ে দেখেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাগণ শিক্ষার্থীগণকে খাবার পরিবেশন করছেন এবং পড়ুয়ারা খাবারের অপচয় করছে না দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় প্রতিদিন পড়ুয়াগণকে ডিম ও ফল সহ পুষ্টিকর খাবার প্রদানের পরামর্শ দেন।

এজন্য তিনি অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবেন বলে জানান। আর কখনো কচিকাঁচা পড়ুয়াদের দৈহিক ও মানসিক প্রহার না করার কথাও বলেন। স্বরাজ বাবু এদিন সমবেত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে একান্তে কথা বলেন এবং তাদের কোন সমস্যা বা কোন কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা? তাও জানতে চান।

এদিন শ্রী চক্রবর্তী বিদ্যালয়ে উপস্থিত পড়ুয়াদের অভিভাবকগণের সাথেও কথা বলেন। সকলেই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষানুরাগী দয়াবান স্বরাজবাবু ও অরূপবাবুর এই মহতী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।








