তিন দিনব্যাপী “রূপান্তর নাট্যোৎসব ২০২৫–২৬” উজ্জ্বল করলো গোবরডাঙার নাট্য ঐতিহ্যের ধারাকে

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : গোবরডাঙার নাট্যঐতিহ্যের ধারাকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলল গোবরডাঙা রূপান্তর আয়োজিত তিন দিনব্যাপী “রূপান্তর নাট্যোৎসব ২০২৫–২৬”। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নাট্যসংস্থার দীর্ঘ সাধনা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার ধারাবাহিক প্রতিফলন ঘটল

৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি ২০২৬—এই তিনটি সন্ধ্যায়, গোবরডাঙা সংস্কৃতি কেন্দ্রে।৩ জানুয়ারি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এক প্রাণবন্ত আবহে সূচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের নাট্যগুরু ও বিশিষ্ট নাট্যপরিচালক শ্রী শ্যামল দত্ত।

রূপান্তরের সভাপতি শ্রী শশাঙ্ক শেখর দত্ত ,বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী নীরেশ ভৌমিক ও শ্রী ইন্দ্রজীত আইচ । উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী বাসুদেব কুন্ডু। তিন দিনের উৎসবে প্রতিদিন তিনটি করে মোট নয়টি নাটক মঞ্চস্থ হয়।প্রথম দিনে মঞ্চস্থ নাটক- ● ‘ঝড়ের পরের দিন’( প্রযোজনা – হরিপাল নাট্য প্রহরী, নির্দেজশনা – পুলক রায় ) ।

● ‘বৃহন্নলা’ ( প্রযোজনা – কালিতলা নাট্যদীপ, নির্দেশনা – অলক কুমার চৌধুরী) । ●‘ইনোচি’ ( রূপান্তর শিশু-কিশোর বিভাগে নাটক , নির্দেশনা – শুভ বিশ্বাস), পৃথিবী যত এগিয়ে যাচ্ছে তার দ্বিগুণ গতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে ছেলেবেলার হৈ হুল্লোর,বেড়ে ওঠার আনন্দ, গাছ পাখি আর মানুষ দেখার চোখ ।

তবু হারিয়ে যখন যায়নি তখন আমাদেরকেই চেষ্টা করতে হবে আমাদের শৈশব কে নতুন প্যাকেটে বেঁধে নতুন যৌবনের হাতে তুলে দেওয়ার। A.I যেমন এসেছে তেমন ওদের ঘরে চলে এসেছে IAD, DA, SDD অথবা Reality Distortion এর মতো ভয়ঙ্কর কিছু সাইকোলজিক্যাল সমস্যা। আর এই সমস্যা আর সমাধান নিয়েই “ইনোচি” ।

যা আসলে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে দিতে চাইছে ৯০ দশকের ছেলেবেলা ।এদিনের তিনটি নাটক দর্শকের সামনে মানব সম্পর্ক, সামাজিক টানাপোড়েন ও অন্তর্লীন বেদনার নানা রূপ তুলে ধরে।দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হয়●‘দংশন’( প্রযোজনা – কাকদ্বীপ নোনা থিয়েটার, নির্দেশনা – দেবাশিস মান্না )●‘কীট'( প্রযোজনা- ব্যান্ডেল আরোহী, নির্দেশনা – রঞ্জন রায়)●

সদানন্দের সাত কাহন( প্রযোজনা – গোবরডাঙা রূপান্তর, নির্দেশনা- অভীক দাঁ) আমাদের রোজনামচায় ভয়, দূর্ঘটনা, বিভৎসতা, নৃশংসতা সব আছে শুধু নেই হাসি , প্রেম , আনন্দ । আর সেইটুকু আমাদের কাছে পৌঁছে দিতেই বোধহয় গোবরডাঙা রূপান্তরের “সদানন্দের সাতকাহন” ।

একটা মনভালো করা , চুরান্ত হাসির নাটক অথচ জেনারেশন গ্যাপ অথবা প্রজন্মের ব্যবধান নিয়ে কী প্রয়োজনীয় এক প্রশ্ন রেখে গেল এ নাটক ।শেষ দিনে মঞ্চস্থ হয়●‘রঘু ডাকাতের চিঠি’( প্রযোজনা – চন্দননগর যুগেরযাত্রী,

নির্দেশনা – রামকৃষ্ণ মন্ডল) ●‘প্রতিবিম্ব’ (প্রযোজনা – ফিনিক, নির্দেশনা – কনক মুখার্জী)●‘খেলাঘর’ ( প্রযোজনা – উত্তরায়ণ , নির্দেশনা – জয়ন্ত দাশগুপ্ত) নাটকের মাধ্যমে নাট্যোৎসব পৌঁছে যায় তার উদ্দেশ্য মুহূর্তে—যেখানে প্রতিবাদ, আত্মঅনুসন্ধান ও কল্পনার মেলবন্ধন দর্শককে ভাবনায় ডুবিয়ে দেয়।

উৎসবের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছিল ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে সারাদিন আয়োজিত বিদ্যালয় নাটকের উৎসব। এই পর্বে অংশগ্রহণ করে মেদিয়া গার্লস হাই স্কুল, কৃষ্ণনগর নবকল্লোল এ.পি. স্কুল, বেড়গুম হাই স্কুল (উঃ মাঃ), ছাত্র কল্যাণ বিদ্যালয় এবং পশ্চিম জয়নগর জয়ন্তী চরণ উচ্চ বিদ্যালয় ।

নবীনদের এই মঞ্চে উপস্থিতি প্রমাণ করে—রূপান্তর কেবল বর্তমান নাট্যচর্চাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ভবিষ্যতের নাট্যসংস্কৃতির ভিত গড়তেও সমানভাবে দায়বদ্ধ।সব মিলিয়ে রূপান্তর নাট্যোৎসব ২০২৫–২৬ ছিল শুধুমাত্র একটি নাট্যআয়োজন নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।










