নীরেশ ভৌমিক : ২০ ফেব্রুয়ারি বারাসাত পৌরসভার বিদ্যাসাগর কক্ষে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শিক্ষক সতু বৈদ্যের সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “স্বপ্ননীল”এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শ্রদ্ধেয়া মায়া সেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান । এই অনুষ্ঠানে নানা স্বাদের রবীন্দ্রসঙ্গীতের ডালি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন এই সময়ের প্রখ্যাত বহু খ্যাতনামা শিল্পী যারা কোন না কোন ভাবে শ্রদ্ধেয়া মায়া সেনের সান্নিধ্য লাভের গৌরব অর্জন করেছেন ।

একজন প্রকৃত শিল্পীই পারেন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষকে উপযুক্ত সম্মান শ্রদ্ধা নিবেদন করতে — এই শিক্ষা মায়া সেন তাঁর স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীদের সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি দিয়ে এসেছেন । আর সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েই নানা রকম প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সমস্ত শিল্পী এসে হাজির হয়েছেন বারাসাত পৌরসভার বিদ্যাসাগর কক্ষে তাঁরই সুযোগ্য ছাত্র সতু বৈদ্যের আহবানে । সতু বৈদ্যের প্রশিক্ষণাধীন “স্বপ্ননীল” সংগীত শিক্ষায়তন নিরলস ভাবে বহু বছর ধরেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঠিক ধারাকে সম্মান দিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম তৈরিতে সচেষ্ট, আর তারই প্রমাণ মিলল এই দিনের সংগীত সন্ধ্যায় ।

এদিন যে এক অনবদ্য বিশেষত্ব নিয়ে “স্বপ্ননীল” হাজির ছিল, তা হল রবীন্দ্রসঙ্গীতের উপর পাশ্চাত্য সংগীতের প্রভাব এবং বিদেশী সেই সংগীতের অনবদ্য উপস্থাপন ও তার পাশাপাশি তার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সৃষ্ট রবীন্দ্র সংগীতের পরিবেশনা । “স্বপ্ননীল”-এর বিভিন্ন বয়সের ছাত্রছাত্রীরা নানা দল- অধরা মাধুরী, রম্যবীণা, মৌনবীণা, কিশলয় , সঞ্চারী, কেতকী, ঠাকুর দালান নামে বিভক্ত হয়ে তাদের সমবেত সঙ্গীত এর অনবদ্য উপস্থাপনা পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই “স্বপ্ননীল”-এর ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশিত উদ্বোধনী সংগীত এর পর মায়া সেনের স্নেহধন্য ছাত্র ৯৫ বছরের শিল্পীর শিল্পী সুবোধ দে তার অনবদ্য উপস্থাপনায় উপস্থিত দর্শকদের শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নেন এরপর ক্রমে ক্রমে মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, অলোক রায়চৌধুরী, রচয়িতা দত্তরায়, শুভাশিস দত্ত, শ্রেয়া চক্রবর্তী, শর্মি চক্রবর্তী, বহ্ণিশিখা ব্যানার্জি, জয়দীপ সিনহা প্রমূখ শিল্পীর অনবদ্য পরিবেশনা প্রায় পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহের শ্রোতাদেরকে তৃপ্ত করে । শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে দিয়েও শিল্পী শিক্ষক সতু বৈদ্য তার সামগ্রিক প্রয়াসকে অব্যাহত রাখতে আন্তরিক ছিলেন ।

অনুষ্ঠানের মাঝেই জনৈক শিল্পী প্রস্তাব রাখেন আগামী বছর শ্রদ্ধেয়া শিল্পী মায়া সেনের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে তার স্নেহধন্য সমস্ত ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে মর্যাদার সঙ্গে মায়া সেন এর প্রতি তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে চায় । সমস্ত শিল্পীকে “স্বপ্ননীল”-র পক্ষ থেকে ‘মায়া সেন স্মারক সম্মান’ প্রদান করা হয় । অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে মায়া সেনের প্রতি অভিনব প্রকারে প্রতিটি শিল্পীর মাল্য দানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানকে এক অন্য মাত্রা দেয় । একজন শিল্পী তথা শিক্ষক এর প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের অন্তরের নিবেদন যে কেমন হতে পারে কতটা হৃদয়বত্তা মেশানো থাকতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বারাসাত “স্বপ্ননীল”-এর এই আয়োজন ।

অনুষ্ঠানে শিল্পীদের মধ্যে দেবারতি সোম স্বপন সোম থেকে শুরু করে অনেকেই যেমন মঞ্চকে প্রাণবন্ত রাখেন তেমনি স্থানীয় বহু সংগীত শিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজকর্মীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো । সমগ্র অনুষ্ঠানটি আর.জে.সোমা সরকার ও ডাক্তার প্রদীপ মিত্রের সুচারু সঞ্চালনায় এক অন্য রসের অন্য সুরের মূর্ছনা যোগায় । কলকাতার বিশিষ্ট শব্দ প্রক্ষেপক হাসি পাঞ্চালের শব্দপক্ষেপণ নিয়ন্ত্রণ ও মঞ্চে সংগীত শিল্পীদের সহযোগী যন্ত্রানুসঙ্গীদের সুনিপুণ সঙ্গত শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা আদায় করে নেয় । বিবেক দাশগুপ্তের মঞ্চ নির্মাণ ছিল যথাযথ । সবকিছুর পাশাপাশি প্রশংসিত হয় রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও শিক্ষক সতু বৈদ্যের এই আন্তরিক আয়োজন ।
















Leave a Reply