পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : “আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে” হ্যাঁ, মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মদিনেই বারাসাত রবীন্দ্রভবনে দুই শিক্ষকের যোগ্য ছাত্র যাকে গুরু শিষ্য সম্পর্ক বলা যেতে পারে তেমনি দুজনের যুগলবন্দীতে অনুষ্ঠিত হলো “গুরু শিষ্যের রবীন্দ্রসংগীতাঞ্জলি”।

পদার্থবিদ্যার শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষ বারাসাতের ভূমিপুত্র । পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ লক্ষ্য করা যেত। বারাসাতের তুষ্টি দিদিমনির সান্নিধ্যে সংগীত চর্চার সূচনা হলেও পরে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও শিক্ষিকা শ্রদ্ধেয়া মায়া সেনের কাছে দীর্ঘদিন তালিম নেওয়ার

পর গত ৩০ বছর ধরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূল ধারার সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভবে যুক্ত রেখেছেন সংগীত শিক্ষক শৈলজারঞ্জন মজুমদার এর যোগ্য ছাত্র বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও সাধক শিক্ষক আচার্য গুরু আশীষ ভট্টাচার্যের সাথে । এরই মধ্যে শ্রী স্বপন ঘোষ আকাশবাণীর নিবন্ধীকৃত প্রথম সারির শিল্পীর মর্যাদা পেয়েছেন ।

তার ক্যাসেট ও রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং তার প্রতিষ্ঠিত গীত সুধা সঙ্গীত শিক্ষায়তন এর পক্ষ থেকে এবং একক ভাবে সরকারি বিভিন্ন সংগীত মেলায় বা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের শান্তিনিকেতনে ঘরানাকে সঠিক সুন্দরভাবে তুলে ধরার ব্যতিক্রমী নিদর্শন রেখেছেন।

বাইশে মার্চ তার সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তারই সংগীত শিক্ষায়তন গীতসুধার ছাত্রছাত্রীরা গুরু প্রণামের এক অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছিল বারাসাত রবীন্দ্রভবনে যেখানে উপস্থিত ছিলেন সে স্বপন ঘোষের সংগীতগুরু শ্রদ্ধেয় আচার্য আশীষ ভট্টাচার্য মহাশয়।

বৈদিক মতে গুরু প্রণামের উপনিষদীয় রীতি মেনে সংবর্ধিত করা হয়। শ্রী আশীষ ভট্টাচার্যকে তিলকের ফোঁটা, আগুন, ফুল, ফল, মিষ্টি, জল, গ্রন্থ, চরম স্পর্শী পুষ্পমালা, বস্ত্র প্রভৃতির মাধ্যমে শিষ্য স্বপন কুমার ঘোষ গুরু আশীষ ভট্টাচার্যকে বরণ করেন।

এরপর গীত সুধার পক্ষ থেকে তাঁকেও যথোচিত মর্যাদায় সম্বর্ধিত করা হয় । গীতসুধার ছাত্রছাত্রীরা তাদের গুরু স্বপন কুমার ঘোষ মহাশয় কে ও প্রায় একই পদ্ধতিতে বরণ করে নেন অতিরিক্ত মানপত্র প্রদানের মাধ্যমে ।

তাঁরই বাল্যবন্ধু , একদা সহকর্মী ও তাঁরই সংগীতের ছাত্র এদিনের সঞ্চালক শিক্ষক সত্যজিৎ ভট্টাচার্যের অনবদ্য ও যথোচিত বক্তব্য সমৃদ্ধ মানপত্র রচনা ও পাঠ যথার্থ গুরুর প্রতি শিষ্যের নিবেদন বলা যায় ।

শুরুতেই সমবেত পুরুষ ও নারী কন্ঠে তিনখানা রবীন্দ্র সংগীত সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানের যথার্থ গৌরচন্দ্রিকা হিসাবে উপস্থাপিত হয় । এরপর গুরু আশিষ ভট্টাচার্যের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্রদ্ধেয় সুদিন চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। তার সাবলীল পান্ডিত্য প্রকাশক প্রাসঙ্গিক বক্তব্য অনুষ্ঠানকে আরো তাৎপর্য পূর্ণ করে তোলে ।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে শিষ্য ও গীতসুধার শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের একক সংগীত নিবেদন পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহের সমস্ত দর্শককে অনাবিল তৃপ্তিতে ভরিয়ে দেয় । রবীন্দ্র সংগীত প্রিয় বারাসাতবাসীর কাছে শিক্ষক আচার্য আশীষ ভট্টাচার্য মহাশয় এর একক সংগীত নিবেদন ছিল এদিনের রবীন্দ্র সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক অন্যরকম পাওনা ।

বিবেক দাশগুপ্তের সুচারু দক্ষতায় বিষয় উপযোগী মঞ্চ নির্মাণ, বিশিষ্ট শব্দ আবহ প্রক্ষেপক হাসি পাঞ্চালের শব্দ প্রক্ষেপন অনবদ্য করে তোলে এদিনের সঙ্গীতানুষ্ঠানকে । সমস্ত সঙ্গীতে সঙ্গতকার হিসাবে তবলা ,পাখোয়াজ , খোল বাদ্যে ছিলেন পার্থ মুখার্জী ,পার্কাসনে ছিলেন সঞ্জীবন আচার্য ,

বাঁশিতে ছিলেন সোমনাথ দাস ও এস্রাজে ছিলেন অভ্র চট্টোপাধ্যায় । একজন যথার্থ শিষ্য তার গুরুকে কিভাবে সম্মাননা জ্ঞাপন করতে পারে মাস্টারদার জন্মদিনে বারাসাত রবীন্দ্রভবনের

এই “গুরু শিষ্যের রবীন্দ্র সংগীতাঞ্জলি” পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে । তাই বলাই যায় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা “আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে ” ছিল যথার্থ ।


















Leave a Reply