মঞ্চস্থ হল গোবরডাঙা মৃদঙ্গম-এর নবতম নাট্য প্রযোজনা “নীল স্বপ্ন”

নীরেশ ভৌমিক : গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫, গোবরডাঙা চিরন্তন কলা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গোবরডাঙা মৃদঙ্গম-এর নবতম নাট্য প্রযোজনা “নীল স্বপ্ন”। নাট্যকার কুন্তল ঘোষ, সম্পাদনা ও নির্দেশনা বরুণ কর। গোবরডাঙা মৃদঙ্গম-এর নবতম নাট্য প্রযোজনা “নীল স্বপ্ন”।

নাট্যকার কুন্তল ঘোষ, সম্পাদনা ও নির্দেশনা বরুণ কর। এই নাটকের বিষয় বস্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। মানুষ এই জীবজগতের একটি পশ্চাদপদ প্রজাতি। আর এত লোভী যে আমরা কখনও আমাদের আনন্দে সুখী হতে পারি না,সর্বদা মনে করি অন্যরা হয়ত আমার থেকে বেশি আনন্দ পেয়ে যাছে।

আমরা সবসময় আমাদের আচার-অনুষ্ঠান,বিশেষ করে বাঙালি,ছেড়ে অন্যদের আচার-অনুষ্ঠান গ্রহণ করতে থাকি। এমনকি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কালচার ভুলে গিয়ে বিদেশের সংস্কৃতিকে বেশি ভালোবেসে থাকি। এই নাটকে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সেইরকম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বড় ছেলে হিমাংশু বিদেশে থাকে।

সে একজন বিদেশীনি এলিস কে বিয়ে করেছে এবং বড় ছেলে হিমু তার বোন পুশুকে একটি চিঠি লিখেছে সে যেন তার মা কে বিয়ের সবটা বুঝিয়ে বলে কারন বিদেশিনীকে বিয়ে করার খবর শুনে মার যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাই। ছোট ছেলে কুশু ও বাবা শিতেশ ফ্যামিলি ডক্টরের সাথে কথা বলে নেন যাতে বড় কোন আঘাতের থেকে মা কে বাঁচানো যায়।

কিন্তু মা এই খাবর শুনে আনন্দে লাফাতে থাকে কারন সে এতদিন ধরে এটাই চেয়েছিল যে তার বড় ছেলে বিদেশিনীকে বিয়ে করে আনবে আর সমাজে তার স্যাটাস বেড়ে যাবে। কারন প্রতিবেশী মুখার্জি গিন্নীর ছেলের বউ দুবছর কানাডা ঘুরে এসেছে আর তাতেই নাকি মুখার্জি গিন্নীর পা মাটিতে পড়ছে না। সেই হিংসায় সে চায় তার বড় ছেলে যেন খোদ বিদেশী বউ নিয়ে আসে। তার মায়ের মনের এমন গোপন ইচ্ছা বাড়ির কেও জানত না তাই সবাই চিঠির কথাটা মা কে জানাতে চাইছিল না।

কিন্তু মা চিঠিটা নিয়ে নেয় এবং বিদেশী বউ আসা উপলক্ষে বাড়িতে পার্টীর ব্যবস্তা করে সেটাও পুরোপুরি বিদেশী কায়দায় সেখানে কোন ভারতীয় কালচার সে রাখবে না। একদিনের মধ্যে মা বাড়ির চাকর হাবু কে নিয়ে বাড়ির সব কিছু পাল্টাতে সুরু করে সেখানে যেন কোন বাঙ্গালী জিনিসপত্র না থাকে। কিন্তু বিদেশিনী পুত্রবধূ কি তার মনের ইচ্ছা পুরোপুরি ভারতীয় হওয়া।

মা এর চরিত্রে অভিনয় করছে সৌমিতা দত্ত বনিক, বাবার চরিত্রে বরুণ কর, ছোট বোন পুশুর চরিত্রে প্রিয়াঙ্কা কুণ্ডু, ছোট ভাইয়ের চরিত্রে গোপাল বিস্বাস, বড় ছেলে সজল বিস্বাস, লিজার চরিত্রে বর্নালি সেন, বিদেশিনী বউয়ের চরিত্রে রিতিজা সেন, চাকর হাবুর চরিত্রে সুর্্য দাস, ডাক্তারের চরিত্রে শাস্বত বিস্বাস, আলো প্রক্ষেপণে রয়েছে আবৃতা কর, আবহ প্রয়োগে সঞ্জনা দেয়। এছাড়াও পেছনের কাজকর্মে যারা যুক্ত রয়েছে তারা হল, সুদীপ্ত দে, রনিতা দত্ত বনিক, প্রিতম বিস্বাস, সৌরভ দাস, টুম্পা পাল, প্রিয়াঙ্কা ঘোষ।








