মিটিং মিছিল ও পাল্টা মিছিলে সরগরম বনগাঁ মহকুমার রাজনীতি

নীরেশ ভৌমিক : কেন্দ্রের বিজেপি অধীনস্থ সরকারের এসআইআর এর চক্রান্তের প্রতিবাদে গত ২৫ নভেম্বর বনগাঁয় সভা এবং গাইঘাটার চাঁদপাড়া ঠাকুরনগর সড়কে ঢাকুরিয়া হাই স্কুল পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেদিনের সভা ও মিছিলে জনজোয়ার আছড়ে পড়ে।মুখ্যমন্ত্রীর সভার কয়েক দিন পরই বনগার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সান্তনু ঠাকুর গত ৬ ডিসেম্বর ঠাকুরনগর সড়কে চাঁদপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ঠাকুরনগর স্টেশন ও বাজার অবধি পদযাত্রার ডাক দেন।

দলের রাজ্য সভাপতি সুবক্তা শমীক ভট্টাচার্য ও চিত্র তারকা মিঠুন চক্রবর্তী মিছিলে পা মেলাবেন ঘোষণায় এবং দু-তিন দিনের প্রচারে বনগাঁ মহাকুমার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চাকদা, হরিণঘাটা থেকেও বহু মানুষ মিছিলে যোগ দিতে আসেন।

জনসমাগম যথেষ্ট হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মিঠুন চক্রবর্তী না আসায় সমবেত মানুষজন খুবই হতাশ হন।বিজেপির এই কর্মসূচীর পর পরই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ঠাকুরনগরের পাল্টা মিছিলের ডাক দেন

। গত ১০ ডিসেম্বর আহুত সেই কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দেন দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, গোবরডাঙ্গার পৌর প্রধান শঙ্কর দত্ত, গাইঘাটার সুভাষ হালদার, নরোত্তম বিশ্বাস, জেলার মহিলা নেত্রী ইলা বাকচি, কার্তিক প্রামানিক প্রমুখ।

ঠাকুরনগর ছাড়াও গোবরডাঙ্গা এবং গাইঘাটার জলেশ্বর, ধর্মপুর, শিমুলপুর এবং সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পম্পা পালের নেতৃত্বে বহু মানুষ এদিনের মিছিলে যোগ দেন। জেলা পরিষদ সদস্য অভিজিৎ বিশ্বাস দলের তরুণ তুর্কি নেতা দেবাংশুকে নিয়ে পদযাত্রায় পা মেলান।

মিছিল শেষে স্থানীয় গাঁতি গ্রামের দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে এক সভায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিকে দিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার আহ্বান জানান দেবাংশু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিনের সভায় শ’খানেক মানুষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।

দলনেতা বিশ্বজিৎ দাস, দেবাংশু, অভিজিৎ বিশ্বাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মিটিং মিছিল এবং পাল্টা মিছিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচীকে ঘিরে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বনগাঁ তথা গাইঘাটা ঠাকুরনগরের রাজনীতি বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।








