আপোসহীন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম, আপনার এলাকার টাটকা সংবাদ পরিবেশনে সর্বদা দায়বদ্ধ।

অনুষ্ঠানউৎসবজেলার খবরনাট্যানুষ্ঠানবিনোদনসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নারী সুরক্ষার বার্তা নিয়ে বসিরহাটের অন্যতম নাট্যদল, ‘একটি প্রযোজনা’র নতুন নাটক “শিকার”

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : নারী সুরক্ষার বার্তা নিয়ে একটি প্রযোজনা’র নতুন নাটক “শিকার” শীতের মরশুমে শহরবাসীকে নতুন নাটক উপহার দিল বসিরহাটের অন্যতম নাট্যদল একটি প্রযোজনা’র একঝাঁক কলাকুশলী। এবছর তাঁরা মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয়ে তাঁদের নতুন প্রযোজনা “শিকার” মঞ্চস্থ করল। নাটকটি লিখেছেন শ্রী প্রদীপ হালদার। নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন একটি প্রযোজনা’র গুরু শ্রীমতী সমাপ্তি ঘোষ। মঞ্চ ভাবনা, আলো ও আবহে ছিলেন ভাস্কর পাল। অভিনয়ের পাশাপাশি আবহ প্রক্ষেপণ করেছেন দিশা দাস। আলোক বিন্যাসে ছিলেন গোপাল দাস।

অদ্রীশ রায়ের মঞ্চ নির্মাণ নাটকটিতে আলাদা বার্তা বহন করে। প্রধান চরিত্র সোমার ভুমিকায় অভিনয় ক’রে অর্পিতা হালদার দর্শকের নজর কেড়েছেন, যথাযথ সঙ্গত দিয়েছেন তিলকের ভূমিকায় ভাস্কর জানা। তবে প্রথম অভিনয়ে তাঁর কয়েকটি জায়গায় আড়ষ্টতা চোখে পড়েছে। সোমার অসহায় বৃদ্ধ বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রথীন্দ্র সেনগুপ্ত। তাঁর পাশে সোমার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিতলী চক্রবর্তী। বয়সে নবীন হলেও তাঁর অভিনয় দেখে দর্শকরা যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন।

এছাড়া থানার বড়বাবু সমাদ্দারের ভূমিকায় অভিনয় করেন ভাস্কর পাল। এএসআই সেনবাবুর চরিত্রে বিশ্বজিত দেবনাথ, কনস্টেবলের চরিত্রে সুবল দত্ত এবং একটি বিশেষ চরিত্র জুঁই-এর ভূমিকায় অভিনয় করেন অহনা দাস।নাটক শেষে নির্দেশক সমাপ্তি ঘোষ জানান, বর্তমান প্রজন্ম ‘সোশ্যাল মিডিয়ার’ প্রতি ভয়ঙ্করভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে তার ভাল খারাপ কোনকিছু বিচার বিবেচনা না করে।

সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগর থানা এলাকায় সোমা নামে এক স্কুল পড়ুয়ার ফেসবুকে আলাপ হয় তিলক নামে একটি ছেলের সঙ্গে। দু-একদিন কথাবার্তা থেকে মন দেওয়া-নেওয়া, দেখা সাক্ষাৎ, উপহার দেওয়া সবকিছু চলছিল ঠিকঠাকই। তারপর একদিন মিষ্টি কথার জালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় ছেলেটি। এদিকে সোমার বৃদ্ধ বাবা-মা মেয়ের কোন খোঁজ না পেয়ে দারস্থ হয় লোকাল থানা থেকে লালবাজার পর্যন্ত সর্বত্র। এই প্রেক্ষিতেই কলম ধরেছেন নাটককার প্রদীপ হালদার।

তাঁর কলমের মুন্সীয়ানায় ধরা পড়েছে সম্পর্কের নানাবিধ টানাপোড়েন, মিথ্যে প্রলোভনের ভয়ঙ্কর পরিনতি, বর্তমান সময়ের পুলিশি ব্যাবস্থা। নাটকটি শুরু আর পাঁচটা মিষ্টি প্রেমের গল্পের মত মনে হলেও সময় যতো এগিয়েছে তাঁর মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছে এক লোভাতুর ভয়ঙ্কর, শিকারের আশায় ওঁৎ পেতে থাকা থাবা। নির্দেশক আরও জানান, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা নারী স্বাধীনতা নিয়ে যতই গলা ফাটাই, নারীরা কি সত্যিই মানসিক ভাবে স্বাধীন হতে পেরেছে? তারই প্রতিফলন হল আমাদের এই নাটক “শিকার”।

যেখানে সামান্য উপহারের লোভে পড়ে, মিথ্যে স্বপ্নের জালে সোমার মতন এমন হাজার হাজার মেয়েরা হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। এছাড়া বাল্য বিবাহ, পণ, বধূ নির্যাতন, যৌন নির্যাতনের মত ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘরে ঘরে। তাই আমরা এই থিয়েটারের মাধ্যমে বেশী বেশী করে মানুষকে সচেতন করতে চাই। যাতে মানুষের এইসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা তৈরী হয় এবং নিজেরাই এই সামাজিক ব্যাধির বিরূদ্ধে সোচ্চার হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *