খাঁটুরা চিত্তপট -এর নতুন নাটক উল্টোডাঙায় সোজা

নীরেশ ভৌমিক : সম্প্রতি শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটারে খাঁটুরা চিত্তপট শুভাশিস রায়চৌধুরীর রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ করল তাদের এ বছরের নতুন নাটক উল্টোডাঙায় সোজা। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বেশ অন্যরকম এক নাটক দেখার স্বাদ পেলাম।

এই নাটকে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে যার কাছে অর্থ অর্থাৎ টাকাই শেষ কথা। তিনি টাকা ছাড়া অন্য কোন কিছুকে কোনদিন ভালোবাসেননি।বংশানুক্রমে এনাদের তেলের ব্যবসা, আর তা থেকেই এনাদের প্রচুর ইনকাম। মজার ব্যাপার হলো এনারা ব্যাংকে টাকা রাখার পরিবর্তে টাকা জমান তেলের টিনে।

আসলে এনাদের ভয় হল ব্যাংকে টাকা রাখলে যদি ব্যাংক সব টাকা নিয়ে নেয় অথবা ব্যাংকের সব টাকা নিয়ে কেউ যদি বিদেশে পালিয়ে যায়, সেই কারণে এনারা ব্যাংকের পরিবর্তে তেলের টিনে টাকা জমান। তো, এই নাটকে আমরা যার জীবন বৃত্তান্ত শুনবো তাঁর নাম নগেন পাল, তাঁর স্ত্রীর নাম অন্নপূর্ণা।

কিন্তু নগেন ভুলেই গিয়েছিলেন যে অর্থই হল অনর্থের মূল। নিঃসন্তান নগেনের চিটিংবাজ ভাগ্নে মন্টু এক গরিব মানুষ অনুপম-কে নাটাকেষ্ট নামের এক গুন্ডা সাজিয়ে, নগেনের উল্টোডাঙার বাড়ির ভাড়াটে হিসেবে নিয়ে আসে।

আর তাকে সঙ্গে নিয়ে মামার সব টাকা- সম্পত্তি হাত করার চেষ্টা করে। নগেনের স্ত্রী গোলমালের আভাষ পেয়ে তাদের বাড়ির দুই ভাড়াটে মিতা ও নীতা যাঁদের এন.জি.ও. একটি অনাথ আশ্রম ও একটি বৃদ্ধাশ্রম চালায়,

তাঁদের সাথে প্ল্যান করে মিতার দাদা যিনি কলকাতার একটি দলে নিয়মিত থিয়েটার করেন তাঁকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সাজিয়ে নিয়ে আসে। এরপরেই একে একে মন্টুর সমস্ত খারাপ উদ্দেশ্য সামনে আসে। নগেন মন্টু কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। নাটাকেষ্ট ওরফে অনুপম উন্নীত হয় এক ভালো মানুষ হিসেবে।

আর নগেনও বুঝতে পারে দানে যে আনন্দ আছে ভোগে সে আনন্দ নেই। এই নাটকে নাটককার হাসির মোড়কে বোঝাতে চেয়েছেন যে অর্থ এবং স্বার্থের ওপরে মানবতার স্থান। আনুমানিক এক ঘন্টার এই নাটক হাসতে হাসতে আমাদের এই কথাই ভাবতে বাধ্য করে।

এই নাটকে নাটাকেষ্ট চরিত্রে সুরজিৎ হালদার অসাধারণ, অন্নপূর্ণা চরিত্রে দেবযানী গাঙ্গুলী চমৎকার অভিনয় করেছেন, এর সাথে সাথে তার নৃত্য কোরিওগ্রাফিরও প্রশংসা করতেই হয়, নগেন চরিত্রে শুভাশিস রায়চৌধুরী যে পরিনত অভিনেতার ছাপ রেখেছেন তা মনে থাকবে অনেকদিন,

ভাগ্নে মন্টুর চরিত্রে শঙখদীপ রায়চৌধুরী খুব ভালো, ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের চরিত্রে তপন রায়চৌধুরী সুন্দর, সুত্রধর চরিত্রে অরুন্ধুতী চ্যাটার্জী প্রথমেই নাটকের এক সুন্দর সুত্র ধরিয়ে দেন, মিতা ও নীতার চরিত্রে কাকলি সেন ভৌমিক ও তাপসী সাহা কুন্ডু এবং বিশেষ চরিত্রে অঞ্জন চ্যাটার্জী যথাযথ অভিনয় করেছেন।

তথাগত চৌধুরীর আবহ নির্মাণ ও অয়ন দাসের আবহ প্রক্ষেপণ এই নাটক এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে, অঞ্জন চ্যাটার্জীর মঞ্চ নাটকের দৃশ্যপটকে সুন্দর করে তুলেছে, গৌতম সরকার ও সুদীপ্ত সরকারের আলো নাটকে আলো – ছায়ার এক সুন্দর খেলা সৃষ্টি করেছে।

নাটককার, নির্দেশক ও অভিনেতা শুভাশিস রায়চৌধুরী এই সমগ্র প্রযোজনার জন্য সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এই নাটকে বাংলার বিভিন্ন মঞ্চে অভিনীত হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *