সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত গাইঘাটার দীঘা গ্রামশ্রী লোক উৎসব

নীরেশ ভৌমিক : গত ১০ জানুয়ারি মধ্যাহ্নে জাতীয় ও ক্লাব পতাকা উত্তোলন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ঢাকীদের শ্রীখোল বাজনা, এনসিসি ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ ও কচি-কাঁচাদের নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় চাঁদপাড়া দীঘা বিদ্যাসাগর সাংস্কৃতিক সংস্থা আয়োজিত ৩৬ তম বর্ষের গ্রামশ্রী লোক উৎসব।

মঙ্গলদীপ প্রোজ্জ্বলন করেন ব্রহ্মচারীনি অসীমা মাতাজী। ছিলেন বর্ষীয়ান গ্রামবাসী সন্তোষ ঘোষ ও কল্পনা মন্ডল, শিক্ষিকা পম্পা বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বাপী দাস, পঞ্চায়েত সদস্য নিমাই মন্ডল, প্রাক্তন সদস্য শম্ভু মন্ডল, ত্রিদিব মন্ডল প্রমূখ।

সংস্থার সভাপতি সঞ্জয় মালাকার ও সম্পাদক গৌতম ঘোষ সকলকে স্বাগত জানান। সদস্যাগণ বিশিষ্টজনদের পুষ্পস্তবকে ও উত্তরীয়তে বরণ করে নেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ তাঁদের বক্তব্যে সুস্থ-সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের বিদ্যাসাগর সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান।

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত লোক উৎসবের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল সমবায় ও বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা সভা, লোক নৃত্য রায় বেশে, ম্যাজিক শো, একক নাটক, অভিনয়, আবৃত্তি। আলোচনা সভায় অংশ নেন বর্ষিয়ান শিক্ষক কালিপদ সরকার ও ডঃ কৌস্তভ চৌধুরী।

এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অংকন, যোগাসন, কুইজ নৃত্য ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ছিল বিনা ব্যয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, চাঁদপাড়ার সুরবানী সংস্থার মঞ্চ সফল নাটক ‘মাঝি’, পাঁচপোতা সন্ধিক্ষণের আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ‘বিস্ময় বালক’ এবং উৎসবের শেষ দিনে যুব দিবসের সন্ধ্যায় ‘মাটির টানে’ লোকগানের অনুষ্ঠান সমবেত দর্শক ও শ্রোতৃ মন্ডলীকে মুগ্ধ করে।

সবকিছু মিলিয়ে ৩৬ তম বর্ষের গ্রামশ্রী লোক উৎসব এলাকায় বেশ সাড়া ফেলে। অন্যতম সংগঠক সূর্যকান্ত সরকার ও পরিমল করের সুচারু সঞ্চালনায় সমগ্র অনুষ্ঠান বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।










