পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : তাঁকে বলা যেতে পারে ভক্তির মূর্ত বিগ্রহ। ভক্তদের অনুভবে যিনি বহিরঙ্গে শিব এবং অন্তরঙ্গে বিষ্ণু – সেই সিদ্ধ যোগী ভাদুড়ী মহাশয় অর্থাৎ পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের তিনি ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই ছায়াসঙ্গী। মহর্ষিদেবের দিব্যচেতনার অন্য অংশ, মহর্ষিদেবের দিব্যতনুর দ্বিতীয় তনু। নামে ধ্যানপ্রকাশ হলেও আসলে মহর্ষিদেবের ছায়াপ্রকাশ।
তাঁর অপার গুরুভক্তি তাঁকে প্রতিমুহূর্তে প্রণত রেখেছে মহর্ষিদেবের পাদপদ্মে। তিনি যেমন মহর্ষিদেবের বাহ্যরূপের সেবা করেছেন, তেমনই হৃদয়ে ধারণ করেছেন মহর্ষিদেবের দিব্য অবস্থান।

শক্তি, প্রজ্ঞা এবং বুদ্ধির এক অপার আধার হয়েও তিনি প্রকাশিত হয়েছেন ভক্তযোগী হিসেবে। মহর্ষিদেবের মুঙ্গেরে কঠোর তপস্যায় সিদ্ধিলাভের সময় কিংবা মহর্ষিদেবের শেষ জীবনের নীরব সাধনার সময় – প্রতি মুহূর্তেই তিনি মহর্ষিদেবের পাশে থেকেছেন।
২ নভেম্বর ১৯২৬-এ মহর্ষিদেব যখন রামনাম শ্রবণ করতে করতে মহাসমাধিতে প্রবেশ করেছেন – তখনও সেই নাম উচ্চারণ করেছেন তিনিই। আবার কলকাতার নিমতলায় মহর্ষিদেবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনিই মহর্ষিদেবের চিতাভস্মপূর্ণ আধার শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মাঠে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করেছেন গুরু ব্রহ্মের আসন।

মহর্ষিদেবের কৃপাতেই তিনি অর্জন করেছেন অষ্টসিদ্ধি। মহর্ষিদেবের মতোই বারবার তাঁর জীবনে সত্য হয়েছে ভাবসমাধি, সবিকল্প সমাধি এবং নির্বিকল্প সমাধি। কিন্তু তিনি সাধনালীন থেকেছেন গুরু ব্রহ্মের সাধনায়।
ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর মহাজীবনের এই আদর্শ আমাদের প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় হনুমানজির মহাজীবনের সুমহান আদর্শকে।
আসলে এই নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী যোগমার্গে স্থিত হয়ে প্রতিমুহূর্তে ধ্যানযোগে উপলব্ধি করেছেন হনুমানজির মাহাত্ম্য। অনুসরণ করেছেন হনুমানজির প্রদর্শিত পথ। এ এক অন্য সাধনা।




















Leave a Reply