গোবরডাঙ্গা গবেষণা পরিষদে সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা সভা

নীরেশ ভৌমিক : গোবরডাঙ্গা গবেষণা পরিষদে “বাংলা সাহিত্যের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬আগস্ট রবিবার অপরাহ্নে। পরিষদের সভা কক্ষে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী বাণী সেনের গাওয়া সংগীতের মধ্য দিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভার সূচনা হয়।

বরিষ্ঠ শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী পবিত্র মুখোপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় শুধু গোবরডাঙ্গা নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষা- সংস্কৃতিপ্রেমী বহু মানুষ উপস্থিত হন। গবেষণা পরিষদের প্রাণপুরুষ বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী দীপক কুমার দাঁ উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান।

অতঃপর আয়োজিত আলোচনা সভার বিষয়বস্তু তুলে ধরে মনোজ্ঞ ভাষণ দেন।আলোচনা সভার মুখ্য বক্তা বিশিষ্ট অধ্যাপিকা ও গবেষক মঞ্জুলা বেরা তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে প্রাচীন ভারতের শিক্ষা ও সাহিত্য-বিশদে তুলে ধরেন।

শ্রীমতী বেরার বক্তব্যে ভারতের প্রাচীন সাহিত্য, চর্যাপদ, মধ্যযুগের সাহিত্য – শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, এবং অষ্টাদশ শতকের টপ্পা, তর্জা গান ও খেউড় এবং পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা ইত্যাদি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

অধ্যাপিকা শ্রীমতি বেরা আরো বলেন যে পরবর্তী সময়ে উইলিয়াম কেরি ও ডেভিড হেয়ার এদেশে আসার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন শুরু হয়। ফোর্ট উইলিয়াম ও হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে।

১৮১৭ তেই পাশ্চাত্য শিক্ষা,অতঃপর বিদ্যাসাগরের সময় থেকে সংস্কৃত সহ প্রাচ্যশিক্ষার প্রসার ঘটতে শুরু করে। বিদ্যাসাগরের বেতাল পঞ্চবিংশতি’র অনুবাদ দিয়েই সাহিত্য রচনার সূচনা হয়। ১৮৬৯ সাল থেকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখা শুরু হয়।

পূর্বে সমস্ত রচনা কাব্যে লেখা হলেও রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের সময় থেকেই বাংলা সাহিত্যে রচনা শুরু হয় এবং অচিরেই তার প্রসার ঘটে।বক্তব্য শেষে শ্রীমতি বেরা শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষানুরাগী মানুষজনের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহনে গবেষণা পরিষদ আয়োজিত এদিনের বাংলা সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা সভা বেশ মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *