ইসরোর প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্ব শুধু ভারতের নয়, বৃহত্তর বিশ্বেরও সেবা করে: প্রধানমন্ত্রী মোদী

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা এখন আর শুধু দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসরোর (ISRO) প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃহত্তর মানবসমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রার সাফল্য, বর্তমান সক্ষমতা এবং আগামী দিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মহাকাশ গবেষণাকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবকল্যাণের বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে শুরু করে সূর্য পর্যবেক্ষণে আদিত্য-এল১—ভারতের মহাকাশ গবেষণা যে ক্রমশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের আরও বড় লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন। ভারতের Space Vision 2047-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন’ (Bharatiya Antariksh Station) প্রতিষ্ঠা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তাঁর আহ্বান—মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কোনও একটি দেশের একক সাফল্য হিসেবে না দেখে বিশ্বের দেশগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ গোটা বিশ্বই এক পরিবার—এই ভাবনাকে সামনে রেখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তা দেন তিনি।ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মহাকাশ গবেষণা, উপগ্রহ, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং মানব মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের মহাকাশ সহযোগিতাও এর অন্যতম উদাহরণ। ভারত-ফ্রান্স যৌথ ঘোষণায় ISRO ও ফ্রান্সের CNES-এর মধ্যে মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির আগামী পর্বে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বেসরকারি শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ISRO-ও স্পষ্ট করেছে যে বেসরকারি অংশগ্রহণের অর্থ সংস্থাটির গুরুত্ব কমে যাওয়া নয়; বরং পরিণত প্রযুক্তির শিল্পায়নের পাশাপাশি ISRO আরও উন্নত গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি এবং কৌশলগত মহাকাশ অভিযানে মনোনিবেশ করবে।এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মহাকাশযাত্রা এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চাঁদ জয়, মানব মহাকাশযাত্রা, মহাকাশ স্টেশন এবং ভবিষ্যতে গ্রহ-অনুসন্ধানের মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য শুধু ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার পরিচয় নয়—বিশ্বের মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারও ইঙ্গিত বহন করছে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই উঠে এসেছে একটি বৃহত্তর দর্শন—মহাকাশের জ্ঞান ও প্রযুক্তি যেন কেবল শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম না হয়ে মানবকল্যাণ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা, যোগাযোগ এবং উন্নয়নের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর সেই চেতনাকে সামনে রেখে ভারতের মহাকাশযাত্রা যদি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তবে আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণায় ভারত শুধু একটি শক্তিশালী মহাকাশ-রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তর মানবসমাজের জন্য প্রযুক্তি ও জ্ঞানের অংশীদার হিসেবেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। (তথ্য ঋন :- ই.নেট)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *