পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : নির্বাচনী আবহ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ বাড়ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রচারে এসে কার্যত জনস্রোতের ঢেউ তুলে দিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

তাঁর সভাকে ঘিরে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি জনসভা নয়—বরং ভোটের আগে বিজেপির এক বড়সড় শক্তি প্রদর্শন।

আসন্ন দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে ৯৪নং বাগদা বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী সোমা ঠাকুর-এর সমর্থনে বাগদায় প্রচারে নামেন যোগী আদিত্যনাথ। সভামঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা মতুয়া সমাজের প্রভাবশালী মুখ শান্তনু ঠাকুর, সোমা ঠাকুর, বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ, উত্তর প্রদেশের জোনাল ইনচার্জ সুরেশ রানা, ত্রিপুরার বিধায়ক ভগবান দাস, জেলা সচিব মলোনী মন্ডল, অমৃতলাল বিশ্বাস, দিবাকর তরফদার, রূপা হালদার, শ্যামসুন্দর ঘোষ সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি ভোটারদের কাছে বিজেপিকে ফের একবার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান।

সভাস্থলে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস এবং স্লোগানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে নির্বাচনের আগে বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সমস্যা গুলিকে সামনে এনে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। রাস্তা সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বাগদার মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত।

তাঁর বক্তৃতায় আত্মবিশ্বাসের সুর ছিল স্পষ্ট, আর জনতার প্রতিক্রিয়াতেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। সব মিলিয়ে বাগদার এই জনসভা রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতি বিজেপির প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বাগদায় দলের সংগঠন ও জনভিত্তির শক্তি প্রকাশ্যে এসেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—এই জনস্রোত কি শুধুই সভার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভোটের বাক্সে গিয়ে বাস্তব ফলাফলে রূপ নেবে? বাগদার ভোট-রাজনীতিতে সেই উত্তর দেবে নির্বাচনের দিন।



















Leave a Reply