পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : উত্তর ২৪পরগনা জেলার বাগদা গ্রামপঞ্চায়েত কার্যালয়ের ঠিক পিছনে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এক বৃদ্ধ বাসিন্দা সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী প্রাক্তন শিক্ষকের দাবি, তার প্রতিবেশী শঙ্করী সাহা স্বামী মৃত মনীন্দ্র সাহার বাড়ির একাধিক বড় গাছ দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা কাটা হয়নি।

অবশেষে গত ১৬ তারিখের ঘূর্ণিঝড়ে ওই গাছ উপড়ে পড়ে তাঁর বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বসতবাড়ির একাংশ ভেঙে দেয়।অভিযোগকারী জানান, তাঁর বাড়ির চারিদিকে ইটের প্রাচীর দেওয়া থাকলেও উত্তর-পশ্চিম দিকের প্রাচীর এবং রোদ-ছায়ার একটি অংশ গাছের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি গাছটি উপড়ে পড়ে তাঁর বাড়ির আম গাছটিও ভেঙে দেয়। এতে বাড়ির নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ৭-৮ বছর ধরে তিনি প্রতিবেশী মহিলাকে বারবার অনুরোধ করে আসছিলেন যাতে সীমানা প্রাচীর থেকে মাত্র ২-৩ ফুট দূরে থাকা বড় গাছগুলি কেটে ফেলা হয়। কিন্তু কোনও সতর্কবার্তা বা অনুরোধে কর্ণপাত করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই গাছগুলোর ডালপালা ও শিকড় এতটাই বিস্তৃত যে তা তাঁর বাড়িকে কার্যত গ্রাস করে ফেলেছে এবং বাড়ির ভিতও বিপন্ন হয়ে উঠেছে।

ঘটনার দিন ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবেশীর একটি ‘লম্বু’ গাছ উপড়ে পড়ে অভিযোগকারীর শৌচাগার কক্ষ এবং তার আশপাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, পরিস্থিতির চাপে তাঁকে নতুন করে ওই অংশ নির্মাণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর বৃদ্ধ শিক্ষক বাগদা গ্রামপঞ্চায়েতের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়ে অনুরোধ করেছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট জায়গা পরিদর্শন করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা হয়।স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ঘূর্ণিঝড়ের সময় বড় গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন নয়,

তবে আগাম সতর্কতা ও নিয়মিত গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলার উদ্যোগ না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত স্থানীয় মহলের।এ বিষয়ে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





















Leave a Reply