প্রতিবন্ধী ভাতাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে চাঞ্চল্য বাগদায়, ভাতা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ, চিঠি বিডিও অফিস ও থানায়

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের বয়রা অঞ্চলের মেহেরানী গ্রামে প্রতিবন্ধী নয় তবুও ৭০% কমিশনে একাধিক সুস্থ মানুষের ভাতা পাইয়ে দেবার গুরুতর অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকৃত প্রতিবন্ধী না হওয়া সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তির নামে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করা, সেই ভাতার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ কমিশন ও এককালীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিমাসে এক হাজার টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ একজন দালাল রুপি স্কুল শিক্ষক কে দিতে হতো। শুধু তাই নয়, ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ১০ হাজার টাকা থেকে ২০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন অর্থও নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এইভাবে গ্রামের বহু সাধারণ ও অশিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে কুড়ুলিয়া গ্রামের রতন মন্ডল এর পুত্র স্কুল শিক্ষক সুমন মণ্ডল জড়িত।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মেহেরানী গ্রামের তরুণ মণ্ডল (৩৯), শুভজিৎ মণ্ডল (১৯) এবং চুঁচুড়া গ্রামের মানু মণ্ডল (৪৫)-এর কাছ থেকেও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে কমিশন ও এককালীন অর্থ নেওয়া হয়েছে।

মেহেরানী গ্রামের বিজেপি নেতা লাল মিয়ার দাবী, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলার পর ভুক্তভোগীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে গতকাল বাগদা বিডিও অফিসে লিখিতভাবে তাঁদের প্রতিবন্ধী ভাতা স্বেচ্ছায় সারেন্ডার করেন।

পরদিন তাঁরা বাগদা থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনের নজরে আনেন বলেও তিনি জানান। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান বিজেপির বাগদা মণ্ডল-১ সভাপতি দিবাকর তরফদার। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা সন্তোষ বিশ্বাস, সমরজিৎ মণ্ডল, রাহুল বারুই, কার্তিক মণ্ডল, লাল মিয়া বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস, দেবাংশু বিশ্বাস, শওকত আলী বিশ্বাস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সরকারি ভাতা ব্যবস্থায় যুক্ত কোনও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক সুমন মণ্ডল বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *