ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রুখতে গাইঘাটার গাজনা কিশলয় তরুণ তীর্থের দুই দিন ব্যাপী সচেতনতা শিবির ও মশারি বিতরণ

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রুখতে পথে ‘কিশলয় তরুণতীর্থ’। দুই দিনব্যাপী সচেতনতা শিবির ও মশারি বিতরণ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোমর বেঁধে নামল স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘কিশলয় তরুণ তীর্থ’।

গত ২৪শে এপ্রিল ও ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬—এই দুদিনব্যাপী বিচিত্র কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হলো মশারিও।

২৪শে এপ্রিল অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে স্থানীয় নীরজ বালা সাধারণ গ্রন্থাগারে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। কিশলয় তরুণতীর্থের অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত দে এর সুচারু সঞ্চালনার মাধ্যমে পরিচালিত এই অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন সংস্থার সম্পাদক ভাস্কর বসু।

ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে স্লাইড শোর মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও প্রতিরোধের উপায় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন সংস্থার সভাপতি কিশোর কুমার ব্যাপারী।​

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন​- শিক্ষাবন্ধু: মিলন সাহা, আসাম বঙ্গীয় সরস্বত মঠের বিশ্বজিৎ ঘোষ, কৌশিক সাহা প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। বিশিষ্ট সাংবাদিক নীরেশ ভৌমিক ও তপন মন্ডল সহ উপস্থিত ছিলেন ​সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিবেশ কর্মীবৃন্দ।​

জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এদিন উদীয়মান শিল্পী দেবত্র বসুর সংগীত এবং গাজনা কিশলয় একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দেয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত প্রতিটি পরিবারের হাতে একটি করে মশারি ও সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেওয়া হয়।

২৫শে এপ্রিল, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের মূল দিনে গাজনা কিশলয় একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিশেষ সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। ছোটদের মধ্যে মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব এবং জমে থাকা পরিষ্কার বা নোংরা জলে মশার বংশবৃদ্ধির বিপদ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কিশলয় তরুণ তীর্থের সদস্যদের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও জল জমতে না দেওয়ার বার্তা নিয়ে একটি প্রচার অভিযান করা হয়।​

সংস্থার এই মহতী উদ্যোগে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। মশারি হাতে পেয়ে খুশি গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আগামী দিনে আরও বড় আকারে হওয়া প্রয়োজন।

সংস্থার পক্ষ থেকে তাপস রায় জানান, কেবল উৎসব বা বিশেষ দিন নয়, সারা বছরই মশার প্রকোপ কমাতে এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে তারা এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *