পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : দেশের স্বাধীনতা অর্জনের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করে ১৫ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হল মহান স্বাধীনতা দিবস। বাগদা ব্লকের সর্বত্রই এদিন সকাল থেকেই জাতীয় পতাকার রঙে সেজে ওঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সরকারি-বেসরকারি দফতর, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রাঙ্গণ।

সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান। কোথাও দেশাত্মবোধক গান, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবার কোথাও স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিতে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির বার্তা।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাগদার অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয় একগুচ্ছ বিশেষ কর্মসূচি।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় উৎসর্গ করেছেন, সেই প্রাক্তন সৈনিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে। তাঁদের অভিজ্ঞতা, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার কথা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে ওঠে।

জাতীয় সঙ্গীতের সুরমূর্ছনায় সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও সদস্যদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফৌজি রীতিনীতি ও শৃঙ্খলা মেনে যথেষ্ট মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

তেরঙ্গার গর্বিত উত্তোলনের সেই মুহূর্তে উপস্থিত সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে দেশপ্রেম ও আবেগের আবহ।এরপর লাড্ডু বিতরণ শেষে এক উৎসব মুখর পরিবেশে বাগদা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ধরে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য রোড-শো।

দেশাত্মবোধক আবেগে উজ্জীবিত হয়ে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এই পদক্ষেপে মুখর হয়ে ওঠে বাজার এলাকা। তাঁদের সুসংগঠিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচি এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদাপূর্ণ প্রদর্শন পথচলতি মানুষ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার এক গভীর বার্তা।

স্বাধীনতার অমর স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে তাঁদের এই উদ্যোগ যেন নতুন প্রজন্মের কাছেও দেশসেবার এক অনুপ্রেরণাময় অধ্যায় হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান হরসিৎ বাগচি, ভাইস চেয়াঃ আনন্দ অধিকারী, ভাইস চেয়াঃ নির্মল কাঞ্জিলাল, সভাপতি সুভাষ মন্ডল,

সম্পাদক মৃনাল কান্তি বিশ্বাস, সহ শ্যামল মজুমদার, ক্যাশিঃ দীপক পাল, সহঃ ক্যাশিঃ রমেশ বিশ্বাস, কনভেনর নেপাল বিশ্বাস প্রমূখ। তাঁদের বক্তব্যে স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য, দেশ ও সমাজের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

সব মিলিয়ে, শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশপ্রেম, ঐক্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে বাগদাজুড়ে পালিত হল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় পতাকার নীচে একত্রিত হয়ে স্বাধীনতার অমর ইতিহাসকে স্মরণ করলেন এলাকার মানুষ, শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া অগণিত বীর শহিদকে।






















Leave a Reply