পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি : ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত BRICS সম্মেলনের শেষে প্রকাশিত দিল্লি ঘোষণাপত্রকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে নয়াদিল্লি। যুযুধান ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে একই মঞ্চে আনার পাশাপাশি চিনকে সঙ্গে নিয়ে পহেলগাম জঙ্গি হামলার নিন্দা করাকে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে ভারত।

ঘোষণাপত্রে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সীমান্তপারের জঙ্গি যাতায়াত, সন্ত্রাসে অর্থসাহায্য ও জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’র বার্তা দিয়েছে ব্রিকস।

পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে—এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রগুলির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সাধারণ নাগরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোর সুরক্ষার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

গাজায় চলতে থাকা হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্যালেস্টাইনবাসীকে জোর করে উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছে BRICS। এই প্রসঙ্গে ইজরায়েলের নামও সরাসরি এসেছে। লেবানন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়ে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তার শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে আমেরিকা, ইরান বা ইজরায়েলকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রসঙ্গে সরাসরি নাম না করে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ১১ সদস্যের জোটের সর্বসম্মত ঘোষণাপত্রে এমন ভাষা খুঁজে বের করাই ছিল ভারতের মূল চ্যালেঞ্জ—এবং সেই পরীক্ষায় আপাতত সফল নয়াদিল্লি।

ভারতের সম্ভাব্য লাভ: এই ঘোষণার ফলে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে ভারতের কূটনৈতিক সমর্থন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে BRICS-এ ভারতের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি, চিন-রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত স্বার্থও কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে।






















Leave a Reply