পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার হাতে হাতেনাতে গ্রেফতার হলেন বাগদা BL&LRO দফতরের রেভিনিউ ইন্সপেক্টর চন্দন মণ্ডল। ঘটনাকে ঘিরে বাগদার প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা শুভজিৎ ভট্টাচার্যের একটি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রেভিনিউ ইন্সপেক্টর চন্দন মণ্ডল প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে দর-কষাকষির পর সেই অঙ্ক কমে ২৫ হাজার টাকায় চূড়ান্ত হয় বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সেই ঘুষের টাকা গ্রহণের সময়ই পূর্বপরিকল্পিত অভিযানে নামে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। টাকা নেওয়ার মুহূর্তে চন্দন মণ্ডলকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর থেকেই বাগদা BL&LRO দফতরের কাজকর্ম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আধিকারিক-কর্মীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও কোনও সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মলয় নাথের অভিযোগ, “চন্দন মণ্ডল ঘুষ ছাড়া কোনও কাজ করেন না”—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যায়। তাঁর আরও দাবি, দফতরের আরও কয়েকজন কর্মী তাঁর সঙ্গে যোগসাজশ করে চলেন এবং দফতরকে ঘিরে একটি ‘দালাল-চক্র’ সক্রিয় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী যে কাজ হওয়ার কথা নয়, অর্থের বিনিময়ে সেই কাজও করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।মলয় নাথের দাবি, এই ধরনের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।একজন সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন শাখার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের পরিষেবা কি আদৌ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পৌঁছচ্ছে? নাকি প্রশাসনিক ব্যবস্থার কোনও কোনও স্তরে এখনও সক্রিয় রয়েছে বেআইনি লেনদেনের অদৃশ্য জাল? এই ঘটনার তদন্তে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর কতটা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর বাগদাবাসীর।





















Leave a Reply