৯৪ নং বাগদা বিধানসভার দুটি স্পর্শকাতর বুথে উত্তেজনা, তৃনমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগের তীর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকেই

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : বাগদায় দ্বিতীয় দফার ভোটে উত্তেজনা, নওদাপাড়া ও হামকুড়ো বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে অভিযোগ-পালটা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের কয়েকটি স্পর্শকাতর বুথ নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে নওদাপাড়া ও হামকুড়ো এলাকার পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। পালটা অভিযোগ ওঠে অন্য পক্ষের তরফেও।

মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। একই সময়ে সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। দুই পক্ষের উপস্থিতি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।

নওদাপাড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ :

তৃণমূল কংগ্রেসের নওদাপাড়া বুথ স্তরের কর্মীদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি নিজেদের এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে আচরণ করে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূল কর্মীরা বুথ এলাকার বাইরে, অর্থাৎ ২০০ মিটার সীমানার বাইরে একটি পাড়ার মুদির দোকান থেকে মুড়ি কিনে খাচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের ওপর আচমকা বেধড়ক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনায় কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং এলাকায় ভোটপর্বের শুরুতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামকুড়োতেও একই অভিযোগ :

অন্যদিকে হামকুড়ো বুথ এলাকাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দাবি, সেখানে তৃণমূল কর্মীদের ওপর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এবং এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে লাঠিচার্জ করা হয়।তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ :

এই উত্তেজনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর এবং বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও নজরদারির আওতায় আসে।প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় পরে ভোটপর্ব স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন :

এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জানানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, ভোটের দিন সাধারণ মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও সংযত ও আইনসঙ্গতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি যাতে পুনরায় অশান্ত না হয়, তার জন্য এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।সার্বিকভাবে বাগদার নওদাপাড়া ও হামকুড়ো বুথে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *