নতুন প্রজন্মের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও প্রতিভার অন্বেষণে একটি প্রযোজনা

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার”- এই লক্ষ্যে সর্বদা অবিচল একটি প্রযোজনা। আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। অথচ তাঁদের শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে, প্রতিযোগিতার অন্ধ দৌড়ে। শিশুদের আজ কল্পজগত, রূপকথা, ছেলেবেলার স্বপ্ন, খেলার মাঠ, উপযুক্ত শিক্ষাঙ্গন বড়ই অমলিন। ছোট থেকেই তাঁদের চেতনায় বপন করা হচ্ছে কুসংস্কার ও বিভেদের বীজ।

তাই ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে রক্ষা করা, সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করা, সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য আজকের নবজাতককে দিতে হবে উপযুক্ত পরিবেশ। সুস্থ সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে তাঁদের মানসিক বিকাশ দৃঢ় করতে হবে। সর্বোপরি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে, তাঁদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে ভালবাসা ও সাহচর্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই “একটি প্রযোজনা” নাট্যদল প্রতি বছরের মত এবছরও আয়োজন করেছিল সারা বাংলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, যা নিছক প্রতিযোগিতা নয়, নতুন প্রজন্মের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও প্রতিভার অন্বেষণ।

সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বন্ধুদল ঐক্যতান। গত ২৯শে মার্চ,২০২৬ সারাদিন বাপ্যী এই প্রতিযোগিতার আসর বসে পূর্বাচল আমরা সবাই ক্লাব ও তার প্রাঙ্গন জুড়ে। সকালে ছিল অঙ্কন প্রতিযোগিতা- মনের খুশিতে রঙ মেলাও। ৪ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বয়েসী ৪৫জন প্রতিযোগী অংশগ্রহন করেছিল চারটি বিভাগে। অনূর্ধ্ব ৬ বছর পর্যন্ত শিশু বিভাগের বিষয় ছিল মন যা চাই তাই আঁকি। ৬ থেকে ১০ অনূর্ধ্ব কিশোর বিভাগের বিষয় আমাদের ছোট গ্রাম। ১০ থেকে ১৫ অনূর্ধ্ব যুব বিভাগের বিষয় ছিল বার মাসে তেরো পার্বণ।

১৫বছরের ঊর্ধ্বে সর্ব সাধারণ বিভাগের বিষয় যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। এরপর বিকেলে শুরু হয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা- কণ্ঠ ছাড় আরও জোরে। ৪ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বয়েসী ৪০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহন করেছিল চারটি বিভাগে। অনূর্ধ্ব ৬ বছর পর্যন্ত শিশু বিভাগের বিষয় ছিল ছন্দে ছন্দে ছড়া কাটি। ৬ থেকে ১০ অনূর্ধ্ব কিশোর বিভাগের বিষয় ছিল সুকুমার রায় বা ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের কথার জাদু। ১০ থেকে ১৫ অনূর্ধ্ব যুব বিভাগের বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা নজরুল ইসলামের যে কোন কবিতা। ১৫বছরের ঊর্ধ্বে সর্ব সাধারণ বিভাগের বিষয় ছিল সুকান্ত ভট্টাচার্য বা জীবনানন্দ দাসের চেতনায়। বিকেল না গড়াতেই ঢল নামে ক্ষুদে নৃত্য প্রতিযোগীদের।

নাচো ছন্দে কি আনন্দে- শিরোনামে নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ৬০ জন প্রতিযোগী। অনূর্ধ্ব ৬ বছর পর্যন্ত শিশু বিভাগের নৃত্যের বিষয় ছিল ছন্দে ছড়া অথবা সৃজনে বাংলা। ৬ থেকে ১০ অনূর্ধ্ব কিশোর বিভাগের বিষয় রবির গানে রবির ছন্দে। ১০ থেকে ১৫ অনূর্ধ্ব যুব বিভাগের বিষয় মাটির সুরে হৃদয়পুরে। ১৫বছরের ঊর্ধ্বে সর্ব সাধারণ বিভাগের নৃত্য প্রতিযোগীতার বিষয় ছিল আধুনিক সৃজন অথবা মাটির গান। এদিনের প্রতিযোগিতার অভিনব বিষয় নির্বাচনে ভূয়সী প্রশংসা করেন অবিভাবক থেকে বিচারক মণ্ডলী প্রত্যেকেই।

অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সৃষ্টি চৌধুরি জানায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাঁর খুব ভাল লেগেছে, তিনি আরও জানায় প্রতি বছরই আয়োজক সংস্থা প্রতিযোগিতার বিষয় চয়নে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শিকড়ের টান সব কিছুকে ছুঁয়ে যায়, তাই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমাদেরও খুব ভাল লাগে। বিচারকের মতামত অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে বেছে নিয়ে প্রায় ৪০জন প্রতিযোগীকে স্মারক ও সংশাপত্র প্রদান করা হয় ৩০শে মার্চ ২০২৬-এ মুক্ত-অঙ্গন রঙ্গালয়ে, একটি প্রযোজনা আয়োজিত নাট্য উৎসব বেঙ্গল রঙ মহোৎসবের মঞ্চে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *