পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের হরিহরপুর গ্রামে ফের একবার ঘটলো এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নির্বাচনের আগে আবারও দুষ্কৃতীদের হাতে নষ্ট হল সিপিআইএম-এর দু’বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা চাষি কমরেড মাজিদ মল্লিকের কষ্টার্জিত স্বপ্নের ফসল। অভিযোগ, তাঁর ১ বিঘা জমিতে লাগানো পটল গাছের গোড়া কেটে সম্পূর্ণ খেত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, গত ৬ বছরে ৫ বার ঠিক নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একইভাবে এই কমরেডের পটল খেত নষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ফলে এলাকায় ফের তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে ‘খুন’ হল এক কৃষকের স্বপ্ন! মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, ধার-দেনা করে, কষ্টার্জিত অর্থ জোগাড় করে প্রতি বছর কিছু বাড়তি উপার্জনের আশায় পটল চাষ করেন মাজিদ মল্লিক।

তাঁর পরিবারের দাবি, প্রতি বছর জমিতে চাষ করতে যে টাকা লাগে তা শুধুই সঞ্চয় নয়, অনেক সময় ঋণ করেও আনতে হয়। এবারও যেন এক রাতেই হয়ে গেল সব শেষ। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে ক্ষেতের সব পটল গাছের গোড়া কেটে দিয়ে যায়, মুহূর্তে শেষ করে দেয় কয়েক মাসের শ্রম, ঘাম আর স্বপ্ন। এই ঘটনার পর ভূক্তভোগী চাষির অবস্থা যেন মাথায় বজ্রাঘাতের মতো। সন্তান স্নেহে পরিচর্যা করা ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে তাঁর চোখে জল। নির্বাচন এলেই কেন রাতের অন্ধকারে এসে হাজির হয় এমন ‘অভিশাপ’?স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় কয়েকদিন ধরেই আতঙ্কিত ছিলেন মাজিদ মল্লিক। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন এলেই তাঁর খেত নষ্ট হয়!শেষমেশ সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, “নির্বাচনের ঠিক আগে বারবার কেন এই ঘটনা ঘটছে?”এটা কি নিছক দুষ্কৃতীদের কাজ? নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?এ প্রশ্ন এখন গোটা হরিহরপুর গ্রাম জুড়ে ঘুরছে। আশ্বাস আসে, বিচার আসে না! পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে প্রতিবারই খেত নষ্ট হওয়ার পরে দলমত নির্বিশেষে বহু মানুষ এসে দুঃখপ্রকাশ করে গেছেন। এসেছেন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাও, এসেছেন প্রশাসনের কর্তারা, এসেছে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাসও। কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। নির্বাচন আসে, চলে যায় নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন, আবির খেলা হয়, মিষ্টি বিতরণ হয়। আর তখনই হরিহরপুর গ্রামের মাজিদ মল্লিক দাঁড়িয়ে থাকেন ধ্বংস হওয়া জমির সামনে, চোখ ভরা জল, বুক ভরা ক্ষোভ, আর মনে অসহায় প্রশ্ন।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা এলাকায় এবারও অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের পরিচয় স্পষ্ট নয়। গ্রামবাসীরা চাইছেন দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। কারণ বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটা কোন সাধারণ চুরিচামারি নয়, এ যেন পরিকল্পিতভাবে একজন চাষিকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা। গ্রামবাসীদের একটাই প্রশ্ন, কে করছে? কেন করছে? সেটা এবার পরিস্কার হোক। হরিহরপুর গ্রামের মানুষ আজ আতঙ্কিত। কারণ একজন জনপ্রতিনিধি ও চাষির ক্ষেত বারবার যদি নির্বাচনের আগে নষ্ট হয়, তাহলে সাধারণ কৃষকের নিরাপত্তা কোথায়?

বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে, তাহলে এটা কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? নাকি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে মাজিদ মল্লিককে অর্থনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও একজন কৃষকের স্বপ্নকে রাতের অন্ধকারে শেষ করে দেওয়া হল। এই ঘটনায় পূঞ্জিভূত ক্ষোভ, বুকভরা কান্না, আতঙ্ক আর বিচার পাওয়ার আকাঙ্খাই নিরন্তর প্রহর গুনছে এখন বাগদার হরিহরপুর গ্রাম।




















Leave a Reply