সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘এখন অহল্যা’ সাহিত্য পত্রিকার বর্ষবরণ উৎসব ২০২৬

নীরেশ ভৌমিক : ২৫ এপ্রিল কলকাতার কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হল-এ সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য পত্রিকা ‘এখন অহল্যা’-র বর্ষবরণ উৎসব ২০২৬। সমগ্র অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল হেঁয়ালি পাবলিকেশান। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নতুন লেখকদের উৎসাহে ভরপুর এই আয়োজন এক আনন্দমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় আন্তর্জাতিক কবি অরণ্যক বসুর হাত ধরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। এরপর সমবেত উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হয় উপস্থিত শিল্পীদের কণ্ঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কবি অরণ্যক বসু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক মলয় কুমার দাস, কবি ও উপন্যাসিক চিন্ময় চক্রবর্তী (নীলকণ্ঠ ফেরিওয়ালা), ‘এখন অহল্যা’-র প্রধান উপদেষ্টা দীপক মিত্র, কবি মানস দাস, কবি কাকলি রায়, লেখিকা মন্দিরা মিশ্র, সাহিত্যিক ও শিক্ষক বিকাশ মিত্র, লেখিকা মল্লিকা মান্না, কবি তরুণ কুমার দাস, কবি অশোক রায়, শ্রেয়া হালদার, মোহিত রায় এবং চিত্রশিল্পী শালিনী রক্ষিত সহ বহু সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সাহিত্যিক মল্লিকা মান্না। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান আরও সুসংগঠিত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথিদের উত্তরীয় ও সম্মাননা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পর শুরু হয় আলোচনা, শুভেচ্ছা ভাষণ এবং বই প্রকাশ পর্ব।

অতিথিদের হাত ধরে প্রকাশিত হয় ‘এখন অহল্যা’ বৈশাখী সংখ্যা, অচেনা শহর, হার্টের অসুখ, ডার্ক ওয়েবের ছোঁয়া, নবীর আগমনে আলোর পৃথিবী, দুই হৃদয়ের স্পন্দন, যদুনাথের ডায়েরি, ভোরের আলো এবং ত্রিপুরার নবম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ মজুমদারের লেখা আমার ভারত।

অনুষ্ঠানে ‘এখন অহল্যা সাহিত্য সম্মান’ প্রদান করা হয় আন্তর্জাতিক কবি অরণ্যক বসুকে। পাশাপাশি হেঁয়ালি পাবলিকেশান-এর পক্ষ থেকে ‘হেঁয়ালি কালজয়ী সম্মান’ প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুপর্ণা ঘোড়াইকে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁদের অনন্য ভাবনা, সৃজনশীলতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।‘এখন অহল্যা’-র সম্পাদক শ্রী সুজন মজুমদার জানান, এই সম্মাননা ও আয়োজন ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং সমকালীন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

তিনি আরও জানান, ‘এখন অহল্যা’ ও হেঁয়ালি পাবলিকেশান সারা বছর জুড়ে নতুন লেখকদের সন্ধান ও সাহিত্যচর্চার প্রসারে কাজ করে চলেছে।তিনি জানান, হেঁয়ালি পাবলিকেশান থেকে প্রকাশের জন্য নির্ধারিত তানুভা এবং অন্তজাগরণ বই দুটি বাইন্ডিং সংক্রান্ত বিলম্বের কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাহিত্যিক মল্লিকা মান্না সমাপ্তি ভাষণ দেন।সংগীত পরিবেশন, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং উপস্থিত কবি-লেখকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান এক আবেগঘন পরিসমাপ্তি লাভ করে।

সমগ্র অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে ‘এখন অহল্যা’ ও হেঁয়ালি পাবলিকেশান-এর পক্ষ থেকে রজত ঘোষ, সেখ জুবের, অরিন্দম সরকার, দেবার্ঘ ঘোষ, মোহিত রায়, মল্লিকা মান্না এবং সৌভিক মজুমদারের সহযোগিতায় এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত সাহিত্য আসরের পরিবেশ গড়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *