দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান, ক্লাবের উদ্যোগে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরল দুই গোডাউনের চাবি

সংবাদদাতা, বনগাঁ : দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে জটিলতার আবর্তে আটকে থাকা দুই গোডাউনের চাবি অবশেষে ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক। উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ মহকুমার পাইকপাড়া বাজারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সবুজ সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে গোডাউনের চাবি ব্যবসায়ী মেহেবুব মোরশেদ বিশ্বাস (লিটন)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।অভিযোগ, ২০২৩ সালে পাইকপাড়া বাজারের সার ও পাট-ভূষিমাল ব্যবসায়ী মেহেবুব মোরশেদ বিশ্বাসের মালিকানাধীন দুটি গোডাউন স্থানীয় তৃণমূলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তাঁর দখল থেকে বেরিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীর দাবি, চাঁদার দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকার করায় তাঁর গোডাউনের চাবি কেড়ে নিয়ে অন্য দু’জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সে সময় তিনি বনগাঁ থানাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ জানালেও কোনও কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ।পরবর্তীতে বিষয়টি লিখিতভাবে পাইকপাড়া সবুজ সংঘ ক্লাবের নজরে আনেন ওই ব্যবসায়ী।

এরপর ক্লাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত ৫ জুলাই রাতে ক্লাব ভবনে বিশিষ্ট সমাজসেবী শৈলেন বিশ্বাসের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গোডাউন দুটি প্রকৃত মালিকের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রাতেই মেহেবুব মোরশেদ বিশ্বাসের হাতে গোডাউনের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

গোডাউন ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত ব্যবসায়ী মেহেবুব মোরশেদ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দফতরের দ্বারস্থ হলেও কোনও ফল মেলেনি। অবশেষে স্থানীয় সবুজ সংঘ ক্লাবের আন্তরিক উদ্যোগ ও এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সহযোগিতায় তিনি তাঁর সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ জন্য তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং এলাকার সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই ঘটনায় সবুজ সংঘ ক্লাবের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ধর্মীয় ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত বিষয় শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *