পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকে মাত্র আধ ঘণ্টার এক প্রবল কালবৈশাখী ঝড় যেন তছনছ করে দিল গোটা এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আচমকা আসা এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু গ্রামবাসী।

রামনগর, হরিহরপুর, মধুপুর, জিৎপুর, কাশিপুর ও মালিপোতা—একাধিক গ্রামে ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি, লণ্ডভণ্ড হয়েছে চাষের জমি, এবং থমকে গেছে বিদ্যুৎ পরিষেবা।সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে রামনগরে।

অরুণ হীরা নামে এক বৃদ্ধের টিনের কাঁচা বাড়িটি ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে। বাড়ির নিচে চাপা পড়ে যান তিনি। আশেপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই প্রবীণ ব্যক্তি।

তার কথায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের হতাশা—বারবার সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেও তিনি কোনো সাহায্য পাননি। পাকা বাড়ির স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে, আর সেই অপূর্ণতাই আজ তাকে জীবনসংকটে ঠেলে দিয়েছিল।শুধু বসতবাড়িই নয়, এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষিক্ষেত্রেও।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কলা, পেঁপে, পটল, কাঁকরোল, সহ একাধিক ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বহু কৃষক বছরের প্রধান আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা। ঝড়ের পর মাঠজুড়ে পড়ে থাকা নষ্ট ফসল যেন তাদের অসহায়তার নিঃশব্দ সাক্ষী।এদিকে ঝড়ের পর থেকেই বাগদার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

বহু জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, ছিঁড়ে গেছে তার। ফলে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই আকস্মিক কালবৈশাখী যেন আবারও মনে করিয়ে দিল কয়েক বছর আগের সেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’-এর স্মৃতি।

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সামনে মানুষের অসহায়ত্ব আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল বাগদার মাটিতে।এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাকা ঘর, কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার—এই তিনটি বিষয়েই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।



















Leave a Reply