আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে গোবরডাঙা রূপান্তরের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

নীরেশ ভৌমিক : গত ২১শে জুন ২০২৬, রবিবার, গোবরডাঙা রূপান্তরের উদ্যোগে বিবেকানন্দ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবী, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যসচেতনতা, আত্মিক উন্নয়ন এবং বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে একসূত্রে বেঁধে এই অনুষ্ঠান এক অনন্য মাত্রা লাভ করে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ যোগাভ্যাস শিবিরের আয়োজন করা হয়। ভোরের নির্মল পরিবেশে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও প্রবীণ নাগরিকেরা উৎসাহের সঙ্গে যোগচর্চায় অংশগ্রহণ করেন। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সূর্যনমস্কার, প্রাণায়াম, ধ্যান এবং বিভিন্ন যোগাসনের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বার্তা তুলে ধরা হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে যোগব্যায়াম শুধুমাত্র শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং মনকে স্থির ও একাগ্র করে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক করে তোলে। ‘সুস্থ দেহ, শান্ত মন—যোগের আবাহন’ এই মূল ভাবনাকে সামনে রেখেই দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়।যোগাভ্যাস পর্ব শেষে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিকাশে যাঁদের অবদান চিরস্মরণীয়, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জীবন, কর্ম ও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে। তাঁর আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম এবং বাংলার স্বার্থরক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়।আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রাজেন্দ্র নাথ মজুমদার। তিনি পশ্চিমবঙ্গের গৌরবময় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বর্তমান সমাজে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

অপর বক্তা শ্রী সুকুমার নাথ বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শ্রীমতি শান্তি নাথ তাঁর বক্তব্যে বাংলার মানবিক মূল্যবোধ, নারীশক্তির বিকাশ এবং সমাজগঠনে সংস্কৃতির ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। বক্তাদের বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতৃমণ্ডলীর মধ্যে গভীর আগ্রহ ও উৎসাহের সঞ্চার করে।অনুষ্ঠান চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক সুন্দর পরিবেশ গড়ে ওঠে। যোগচর্চার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা যেমন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ দিবসের আলোচনা নতুন প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আরও সচেতন ও আগ্রহী করে তোলে।

উপস্থিত সকলে মত প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে ইতিবাচক চেতনা গড়ে তুলতে এবং মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক সংস্থা গোবরডাঙা রূপান্তরের পক্ষ থেকে সকল অতিথি, বক্তা, যোগপ্রশিক্ষক, অংশগ্রহণকারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমগ্র অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সমাজচেতনার এক অনন্য সমন্বয়ে দিনটি উপস্থিত সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *