দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ ধর্মেন্দ্র প্রধানের, NEET-UG অনিয়ম ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংকট ঘিরে উত্তাল দেশ, CJP-র ‘অপরিবর্তনীয়’ দাবির পর বড় সিদ্ধান্ত

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক, নিউ দিল্লি : দেশজুড়ে চলা তীব্র ছাত্র ও যুব আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার, ২৫ জুলাই, তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের কথা সামাজিকমাধ্যম X-এ প্রকাশ করেছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষায় অনিয়ম, NEET-UG নিয়ে বিতর্ক এবং দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ছাত্র-যুবদের ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল Cockroach Janta Party (CJP)। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও।

NEET-UG বিতর্ক থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত

NEET-UG ২০২৬-কে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়ম সামনে আসার পর সরকার বিষয়টি তদন্তের জন্য CBI-এর হাতে দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পরীক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরীক্ষার সঙ্গে ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী যুক্ত থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, পরীক্ষাব্যবস্থায় বারবার অনিয়মের ফলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

CJP-র সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা

আন্দোলন পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রের সঙ্গে CJP প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় আলোচনা হয়। ২৪ জুলাইয়ের বৈঠকে CJP স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের অন্যতম প্রধান এবং ‘non-negotiable’ দাবি। পাশাপাশি পরীক্ষায় অনিয়মের শিকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার মতো দাবিও আলোচনায় উঠে আসে।

২৫ জুলাইও কেন্দ্র ও CJP-র মধ্যে আরও আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। ফলে আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় দাবি পূরণ হলো।

কেন পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?

নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাবলিতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় আটকে না যায়।

যন্তর মন্তর ও দেশের বিভিন্ন অংশে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সুযোগ যাতে ‘anti-national forces’ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ণ থাকে এবং ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মন দিতে পারে—এই কারণগুলোকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

প্রধান একই সঙ্গে দাবি করেছেন, শুরু থেকেই তিনি পরিস্থিতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং পরীক্ষার অনিয়মের কারণে কোনও মেধাবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, তা তিনি চাননি।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই আন্দোলনের সব দাবি পূরণ হয়ে যাচ্ছে না। CJP-র অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পরীক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও পরিবারগুলির জন্য ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনাই হবে পরিস্থিতির পরবর্তী দিক নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সরকারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পরবর্তী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কে হবেন এবং পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আস্থা কীভাবে ফিরিয়ে আনা হবে? NEET-UG-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *