ন্যাকের বি-গ্রেডের গৌরবকে সঙ্গী করে ২১ বছরে পদার্পণ, উৎসবের আবহে মুখর হেলেঞ্চা ড. বি. আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : সীমান্তবর্তী বাগদা ব্লকের শিক্ষা-সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, ন্যাকের মূল্যায়নে বি-গ্রেড প্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী হেলেঞ্চা ড. বি. আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয় আজ গৌরবের সঙ্গে অতিক্রম করল তার প্রতিষ্ঠার ২১তম বর্ষ।

১ আগস্ট, ২০২৬-এ প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলেজ অডিটরিয়ামে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা ও একগুচ্ছ সামাজিক কর্মসূচির। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য মেলবন্ধনে দিনভর মুখর হয়ে ওঠে গোটা কলেজ প্রাঙ্গণ।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের অন্যতম ঠিকানা হয়ে ওঠা এই মহাবিদ্যালয় আজ শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বাগদাবাসীর আবেগ, গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।

সুদক্ষ অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাশ-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আশপাশের মহাবিদ্যালয় গুলির মধ্যে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠা দিবসের সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে ভিড় জমান এলাকার বিশিষ্টজন, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী। উৎসবের আবহে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সমগ্র প্রাঙ্গণ।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভারতরত্ন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তথা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক (ডঃ) দেবব্রত মিত্র মাননীয় উপাচার্য, ডব্লিউ.বি.এস.ইউ।

পরে বাবা সাহেবের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বাগদার বিধায়িকা সোমা ঠাকুর। এরপর কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের সূচনায় যৌথ ভাবে

একটি চারাগাছে জল সিঞ্চন করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির তথা জিবি প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক (ডঃ) দেবব্রত মিত্র মাননীয় উপাচার্য, বাগদার বিধায়িকা সোমা ঠাকুর ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাশ।

উপস্থিত অতিথিদের করতালির মধ্যে ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলেজের জি.বি. সভাপতি তথা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. দেবব্রত মিত্র মাননীয় উপাচার্য, বাগদার বিধায়িকা সোমা ঠাকুর ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাশ।

উদ্বোধনী পর্বে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত উদ্বোধনী সঙ্গীত ও অধ্যাপক আজিজ মণ্ডলের দেশাত্মবোধক সংগীত অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

পরে চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় ও চারাগাছ উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। একইসঙ্গে বাগদার বিশিষ্ট সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা এবং অনিরুদ্ধ কীর্ত্তনীয়া-কেও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব।

উদ্বোধনী ভাষণে কলেজের রূপকার ও প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাশ মহাবিদ্যালয়ের জন্মলগ্নের সংগ্রাম, দীর্ঘ পথচলার সাফল্য, ন্যাকের স্বীকৃতি,

বর্তমান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার প্রসার, গুণগত মানোন্নয়ন এবং সমাজমুখী শিক্ষার প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের জি.বি. সভাপতি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. দেবব্রত মিত্র। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাগদার বিধায়িকা সোমা ঠাকুর।

এছাড়াও মঞ্চে বিশেষ ভাবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাশ, নকুল চন্দ্র হীরা, বাদল কৃষ্ণ সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন প্রতিনিধি- মৃন্ময় রায়, আঃ রাকিব।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে কলেজের সকল অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কলেজের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কলেজটি পেল সাইন্স বিভাগ খোলার এবং কলেজের সকল পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মত মনসন্তুষ্টির আশ্বাস।

অনুষ্ঠানে কলেজের সকল অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলেজের ক্রীড়া, সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক চর্চা, সেল্ফ ডিফেন্স, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।

শিক্ষার আলোয় সীমান্তকে আলোকিত করার যে প্রত্যয় নিয়ে দুই দশক আগে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে সেই অঙ্গীকারই যেন আরও একবার দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারিত হল হেলেঞ্চা ড. বি. আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের মঞ্চ থেকে।

শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই আলোকবর্তিকা আগামী দিনেও বাগদা তথা সীমান্ত বাংলার গর্ব হয়ে পথ দেখাবে— এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলেই। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন কলেজের অধ্যাপক আজিজ মন্ডল ও চন্দন বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *