পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : শিক্ষার প্রসার এবং সমাজের নবীন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাগদা হরিগুরু চাঁদ ঠাকুর ভক্ত সেবা সংঘের উদ্যোগে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও পুস্তক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো।

বাগদা ব্লক হরিগুরুচাঁদ ঠাকুর ভক্ত সেবা সংঘের মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষকমণ্ডলী, সমাজকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণের যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই আদর্শকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিশেষ করে গুরুচাঁদ ঠাকুরের অমর বাণী— “খাও বা না খাও, শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দাও”—কে পাথেয় করে সংঘ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উনিশ শতকের বাংলায় যখন দলিত, অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, তখন হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুর শিক্ষা, সাম্য, মানবধর্ম এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মাধ্যমে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন।

তাঁদের আদর্শ আজও সমাজকে আলোকিত করে চলেছে। সেই আদর্শের ধারক ও বাহক হিসেবে হরিগুরুচাঁদ ঠাকুর ভক্ত সেবা সংঘ এলাকার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মান জানিয়ে তাদের আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গভূষণ ভূষিত হরিগুরুচাঁদ সেবা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মৃনাল গোসাই, সংঘের সভাপতি জগদীশ অধিকারী, বিশিষ্ট বয়স্ক ক্রীড়াবিদ, শিক্ষক তন্ময় বালা, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সত্য মোদক, সংঘের অন্যতম সংগঠক অনুপম রায়, নাট্যকর্মী অর্ণব পোড়েল, বিপুল বিশ্বাস সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বক্তারা কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত শক্তি। শিক্ষা মানুষকে আত্মনির্ভরশীল, সচেতন ও মানবিক করে তোলে। তাই আগামী দিনে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই, শিক্ষাসামগ্রী ও সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন শিক্ষক ও সংগঠক অপূর্ব বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের শেষে সংঘের পক্ষ থেকে আগামী দিনেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি আরও বৃহত্তর পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।


















Leave a Reply