পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার হেলেঞ্চায় এক মনোজ্ঞ ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সৃষ্টি ডান্স একাডেমী-র উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় হেলেঞ্চার সংশপ্তক, ঐকতান বাগদা ব্লক, সূচনা সাংস্কৃতিক সংস্থা (কলকাতা), সমলয় ও বাগদা ব্লক চর্যাপদ-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান কক্ষে।

বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের আনন্দকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলটি যেন পরিণত হয়েছিল এক অপূর্ব উৎসবমঞ্চে। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সৃষ্টি ডান্স একাডেমির অধ্যক্ষা ও নৃত্য শিক্ষিকা শ্রীমতী রূপা বাগচী।

প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে তিনি অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। আলো জ্বালানোর সেই মুহূর্ত যেন প্রতীক হয়ে উঠেছিল নতুন বছরের আশাবাদ, আলোকিত ভাবনা ও সংস্কৃতির নবজাগরণের।

উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন সৃষ্টি ডান্স একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সত্য মোদক, সংশপ্তকের সভাপতি শিক্ষক অপূর্ব বিশ্বাস, বিশিষ্ট যন্ত্রশিল্পী ও শিক্ষক প্রণয় দেবনাথ, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও সূচনা সাংস্কৃতিক সংস্থার সম্পাদক সমীর সেন, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও নাট্যকর্মী শ্রীমতী তিথি সেন এবং বাগদা ব্লক চর্যাপদের সভাপতি শিবশঙ্কর সরকার।

তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও তাৎপর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল চোখে পড়ার মতো উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। বিপুল দর্শক সমাগমে অনুষ্ঠান কক্ষটি এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

যেন সংস্কৃতির আহ্বানে একত্রিত হয়েছিলেন বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ—কেউ এসেছেন নৃত্য দেখতে, কেউ কবিতার ছন্দে মন ভাসাতে, কেউ বা গানের সুরে নববর্ষের আবেশ অনুভব করতে।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নৃত্য, কবিতা, সংগীত ও আলোচনা—এই চারটি ধারার সার্থক মেলবন্ধন।

শিল্পকলার নানা রঙে রাঙানো এই সন্ধ্যা একদিকে যেমন আনন্দের বার্তা বহন করছিল, তেমনই বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাও ছিল। অনুষ্ঠানের আলোচনায় এবং সংগীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন

বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. অনুপ কুমার বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অপূর্ব বিশ্বাস, সঙ্গীতশিল্পী অশোক কুমার বারুই, নাট্যকর্মী শ্রীমতী মাধুরী সরকার, সঙ্গীতশিল্পী পরেশ সরকার এবং সত্য মোদক। তাঁদের বক্তব্য ও পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও গভীরতা ও ভাবনাময়তা প্রদান করে।

নববর্ষের এই আয়োজন যেন শুধু বিনোদনের অনুষ্ঠান ছিল না—এটি ছিল বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার এক প্রাণবন্ত প্রকাশ। নৃত্যের ছন্দে, কবিতার শব্দে, গানের সুরে এবং আলোচনার প্রজ্ঞায় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায় পুরো অনুষ্ঠান।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়ার এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সফল, প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়। হেলেঞ্চার মাটিতে এই অনুষ্ঠান যেন প্রমাণ করল—বাংলার উৎসব মানেই শুধু আনন্দ নয়, তা এক ঐতিহ্যবাহী আত্মপরিচয়ের উদযাপনও বটে।



















Leave a Reply