“ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন, জীবন বাঁচান”—হেলেঞ্চায় পড়ুয়াদের পদযাত্রায় সচেতনতার বার্তা

হেলেঞ্চা থেকে জহিরুল ইসলাম বিশ্বাস, শুক্রবার : সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে অভিনব সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হল বাগদা থানার হেলেঞ্চা বাজারে। শুক্রবার বনগাঁ পুলিশ জেলার অধীন বাগদা থানার উদ্যোগে বিদ্যাসাগর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত হয় এক সচেতনতামূলক মিছিল।
ব্যানার, ফেস্টুন ও সচেতনতামূলক নানা স্লোগানে সজ্জিত মিছিলটি হেলেঞ্চা বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে। ছোট ছোট পড়ুয়াদের কণ্ঠে যখন বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল—“ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন—জীবন বাঁচান”, “আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে”, তখন পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় সচেতনতার আবহ। মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন বাগদা থানার ওসি রাখোহরি ঘোষ, ট্রাফিক সার্জেন্ট মতিউর রহমান এবং বিদ্যাসাগর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের স্বত্বাধিকারী রবি বাবু। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে স্কুলের পড়ুয়াদের এই সম্মিলিত পদক্ষেপ পথ নিরাপত্তার বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। মিছিল থেকে পথ নিরাপত্তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়। সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, বাইক চালানোর সময় অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করা, চারচাকা গাড়িতে যাত্রার সময় সিট-বেল্ট বাঁধা, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারের আবেদন জানানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে বোঝানো হয়, একটু অসতর্কতা যেমন প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তেমনই সামান্য সচেতনতা একটি মূল্যবান জীবন রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তায় চলাচলের সময় নিজের পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার প্রতিও দায়বদ্ধ হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। এদিনের কর্মসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে—সেফ রোড সেফ লাইফ-এর ভাবনা। নিরাপদ সড়ক শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়; পথচারী, চালক, যাত্রী এবং সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে। পড়ুয়াদের হাতে থাকা ফেস্টুন ও ব্যানারে লেখা বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা এবং তাঁদের প্রাণবন্ত স্লোগান কার্যত হেলেঞ্চা বাজারের ব্যস্ত জনজীবনে নিরাপদ পথ চলার এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হয়ে ওঠে। “আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে”—এই বার্তাকে সামনে রেখে বাগদা থানার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের মধ্যেও সড়ক নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *