আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতাই বার্তা—গোবরডাঙায় ‘আমার প্রয়াস’-এর রাখীবন্ধনে সম্প্রীতির অনন্য নজির

নীরেশ ভৌমিক : কোনও আড়ম্বর নেই, নেই জাঁকজমকের বহর। নেই মঞ্চ, মাইক কিংবা প্রচারের প্রতিযোগিতা। আছে শুধু আন্তরিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সম্প্রীতির এক নীরব অথচ গভীর বন্ধন। রাখীবন্ধন উৎসবকে এমনই এক মানবিক আবেদনে রূপ দিল গোবরডাঙার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আমার প্রয়াস’।তিথি মেনেই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ‘আমার প্রয়াস’-এর গোবরডাঙার মুখ্য কার্যালয়ের সম্মুখে অনুষ্ঠিত হয় এক অভিনব রাখীবন্ধন কর্মসূচি। সংস্থার সদস্য দিদি-ভাইয়েরা পথ চলতি একেবারে সাধারণ মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন।

প্রায় দুই শতাধিক মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে তাঁদের সঙ্গে গড়ে তোলা হয় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন।এই উদ্যোগের বিশেষত্ব ছিল তার সরলতায়। পরিচয়, অবস্থান কিংবা সামাজিক বিভাজনের কোনও দেওয়াল সেখানে ছিল না। পথ চলতি সাধারণ মানুষই হয়ে উঠেছিলেন এই উৎসবের আপনজন। একটি রাখী হয়ে উঠেছিল পরস্পরের প্রতি সম্মান, সৌজন্য এবং সম্প্রীতির প্রতীক।‘আমার প্রয়াস’-এর এই উদ্যোগ যেন মনে করিয়ে দিল—ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও একটি ছোট্ট রাখী, একটি আন্তরিক হাসি এবং কয়েক মুহূর্তের সৌজন্যই মানুষের মধ্যে তৈরি করতে পারে গভীর সম্পর্কের সেতু।

সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “কোনও আড়ম্বর নয়, সাড়ম্বর নয়—শুধু আন্তরিকতা ছিল, আছে এবং থাকবে নীরবে।” আর সেই নীরব আন্তরিকতার মধ্যেই এদিন খুঁজে পাওয়া গেল রাখীবন্ধনের প্রকৃত তাৎপর্য।তবে এদিনের অনুষ্ঠানে ‘চমক’ও ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই চমকের বিস্তারিত প্রকাশ্যে না এনে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, “যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরাই জানেন—চমকটা কী ছিল। সেটুকু আমাদের মধ্যেই থাক।” ফলে ‘আমার প্রয়াস’-এর এই বিশেষ উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম কৌতূহলও।

উল্লেখ্য, চলতি বছর রাখীবন্ধন উৎসবের তিথি শুরু হয় ২৭ আগস্ট সকাল ৯টা ০৮ মিনিটে এবং তা পরদিন ২৮ আগস্ট সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ছিল। সেই তিথি অনুসরণ করেই ‘আমার প্রয়াস’-এর সদস্যদের এই মানবিক কর্মসূচি।সব মিলিয়ে, গোবরডাঙায় ‘আমার প্রয়াস’-এর রাখীবন্ধন উৎসব প্রমাণ করল—সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বড় মঞ্চের প্রয়োজন হয় না। মানুষের কাছে পৌঁছতে হয় মানুষের মতো করেই। আর সেখানেই হয়তো এই ছোট্ট উদ্যোগের বড় সাফল্য—রাখীর সুতোয় নয়, আন্তরিকতার বন্ধনে মানুষকে কাছে টেনে নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *