পারফেক্ট টাইম নিউজ, নয়াদিল্লি : SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই আন্দোলনে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি CJP বা Cockroach Janta Party-ও সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করছে। SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে CJP-এর পক্ষ থেকে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। সংগঠনটির তরফে আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ INDIA ব্লকের একাধিক সাংসদ যন্তর মন্তরের উদ্দেশে এগোলে তাঁদের পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। এরপর রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক সাংসদকে আটক করা হয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পুলিশের বাধার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান।

রাহুল গান্ধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে SIR ও ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানাতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। অন্যদিকে কমিশনের বক্তব্য, বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রভাব :
SIR ইস্যুটির প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং সেই নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠন করে। বিজেপি ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পায় এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন।

SIR-কে ঘিরে বাংলায় এখনও রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর সময় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে এবং তাঁদের মধ্যে ২২ লক্ষেরও বেশি ভোটার পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, SIR-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, SIR-এর মাধ্যমে মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট বা যোগ্যতা পূরণ না করা ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লির আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতেও নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে।

ফলে দিল্লিতে রাহুল গান্ধী-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীদের আন্দোলন শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও SIR ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাই এখন সামনে আসছে। তবে এই আন্দোলনের সরাসরি রাজনৈতিক ফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।























Leave a Reply