পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : হেলেঞ্চার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যেন এক অন্য আবহে মোড়া ছিল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ঐকতান বাগদা শাখার উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় পালিত হলো ১৬৬তম জন্মজয়ন্তী।

অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়—যেখানে গান, কবিতা, নৃত্য, আবৃত্তি ও ভাবনার মেলবন্ধনে জেগে ওঠে রবীন্দ্রচেতনার অমলিন দীপ্তি।

বাংলা সংস্কৃতির আকাশে রবীন্দ্রনাথ শুধুই একজন কবি নন—তিনি এক চিরন্তন অনুভব, এক মানবিক দর্শন, এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার দীপশিখা।

তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টির আলো আজও মানুষকে পথ দেখায় প্রেমে, প্রতিবাদে, মুক্তচিন্তায় ও মানবতার চেতনায়। সেই মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই ছিল আজকের এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আমডোব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় সুভাষ দেব বর্মন।

উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও কবি-সাহিত্যিক বাদল কৃষ্ণ সরকার, গীতিকার শুকলাল বিশ্বাস, সমাজকর্মী বাসুদেব বিশ্বাস, সংগীত শিক্ষক তাপস মন্ডল, প্রবীর চ্যাটার্জী, যন্ত্রশিল্পী প্রণয় দেবনাথ, অপু বিশ্বাস,

শিব শংকর সরকার, নৃত্য শিক্ষিকা রুপা বাগচী, বাগদা ব্লক চর্যাপদের সম্পাদক তাপস রায়, সংগঠক সন্তু বালা, কিংকর মোদক, প্লাবন হালদার, সৌরভ মোদক এবং বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সত্য মোদক সহ বহু সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। প্রদীপের সেই শিখা যেন প্রতীক হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রচেতনার—অন্ধকার ভেদ করে মানবতার আলো জ্বালিয়ে রাখার এক অনন্ত আহ্বান।

এরপর ঐকতানের সভাপতি প্রবীর চ্যাটার্জী-র সুমধুর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পর্যায়ক্রমে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।

শিল্পীদের কণ্ঠে ও পরিবেশনায় যেন ফিরে আসে রবীন্দ্রনাথের সেই অমর মানবধর্মের বাণী—“মানুষের উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।

”অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সত্য মোদক বর্তমান সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতার কথা গভীরভাবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিভেদের সময়ে রবীন্দ্রনাথ আমাদের শেখান সম্প্রীতির পাঠ, ঘৃণার সময়ে তিনি শোনান ভালোবাসার গান, আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তিনি জাগিয়ে তোলেন মুক্ত মানবতার চেতনা।

এছাড়াও শ্রদ্ধেয় সুভাষ দেব বর্মন, বাদল কৃষ্ণ সরকার, শুকলাল বিশ্বাস সহ অন্যান্য বক্তারা রবীন্দ্রসাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা—যেখানে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি শুধুই স্মরণ করা হয়নি, বরং অনুভব করা হয়েছে। গান ছিল, কবিতা ছিল, চিন্তা ছিল, আর ছিল মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার গভীর শিক্ষা।

শেষে সকল শিল্পী, অতিথি ও উপস্থিত দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। রবীন্দ্রচেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আগামী দিনেও সংস্কৃতি ও মানবতার পথে চলার অঙ্গীকার নিয়েই শেষ হয় এই স্মরণীয় সন্ধ্যা।

















Leave a Reply