পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ ও লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করল বাগদার ঐতিহ্যবাহী ঝুলন মেলা। মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য পরিবেশ ও উৎসবের আবহে এই প্রাচীন মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছিল উৎসবের আমেজ। মেলা প্রাঙ্গণে ভক্ত-পুণ্যার্থী, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগদা থানার ওসি রাখোহরি ঘোষ,

জয়েন্ট বিডিও দিবাকর পাল, বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ শুভ্রজ্যোতি মজুমদার, সমাজসেবক দিবাকর তরফদার, সৌরভ গয়ালী, হরষিত ঢালী, এডিও, ব্যাংকের ম্যানেজার, মন্দিরের সেবাইতগণ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে বাগদার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই ঝুলন মেলা। সময়ের সঙ্গে মেলার পরিসর ও আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ এবং মানুষের মিলনমেলার চরিত্র আজও অমলিন।

তাই ৮১তম বর্ষের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি মেলা নয়—এ যেন বাগদার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনজীবনের এক জীবন্ত দলিল।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সোমা ঠাকুর এই ঐতিহ্যবাহী মেলার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন।

পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।তবে এই সুন্দর ও প্রাণবন্ত আয়োজনের নেপথ্যে যাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাঁদের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন গণেশ বিশ্বাস, আনন্দ অধিকারী, অভিজিৎ সরকার, পরিতোষ দাস, লাল্টু সর্দার, চম্পা দাস-সহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় মানোষ অধিকারী তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে যোগ করেন বাড়তি মাত্রা।সব মিলিয়ে ৮১তম বর্ষের বাগদার ঝুলন মেলার শুভ উদ্বোধন হয়ে উঠল ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি মানুষের মিলন, সংস্কৃতির উদযাপন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আগামী কয়েকদিন এই মেলা বাগদার জনজীবনে এক অন্যরকম উৎসবের আবহ তৈরি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।




















Leave a Reply