৩২ বছরের নাট্যচর্চার ঐতিহ্যে সম্প্রীতির বার্তা—রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার রাখিবন্ধন উৎসব

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : নাট্যচর্চার দীর্ঘ ৩২ বছরের পথপরিক্রমায় অভিনয় ও মঞ্চনাটকের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে চলেছে রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা। সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় তাদের ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসব। বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির আবহে এবারও অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার রাখিবন্ধন উৎসব।জানা যায়, ২০০০ সালে প্রকাশ্যে রবীন্দ্র নাট্য সংস্থাই প্রথম রাখিবন্ধন উৎসবের সূচনা করে।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পথচলতি মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সেই উদ্যোগ আজও সমানভাবে অব্যাহত। একটি সাংস্কৃতিক দল হিসেবে প্রকাশ্যে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার এই উদ্যোগকে তাদের অন্যতম বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, বিশিষ্ট সমাজসেবী আশিস ব্যানার্জি, বিশিষ্ট সাংবাদিক পাঁচু গোপাল হাজরা, কবি অলকানন্দ বসু, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হাবিব-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করেন আলোকবর্তিকা ভট্টাচার্য, পূজা হালদার, দিয়া মিস্ত্রি ও অঞ্জলি মৃধা। নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ঋতুপর্ণা মুখার্জী। এছাড়াও নৃত্য পরিবেশন করেন মেঠো পথের শিল্পীবৃন্দ।

সংগীত পরিবেশন করেন মিতা নট্য, অশ্রুকণা খাসকেল, মীনাক্ষী দাস, চন্দনা বিশ্বাস, ঝুনু গুড়িয়া, বাসুদেব দাস ও জীবন বিশ্বাস। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক পাঁচু গোপাল হাজরা রাখিবন্ধনের তাৎপর্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এদিনের মঞ্চ থেকেই তিনি তাঁর ‘কথাবার্তা’ পত্রিকার ২৮ তারিখের সংখ্যা প্রকাশ করেন, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।বক্তব্য রাখেন কবি অলকানন্দ বসু, সমাজসেবী আশিস ব্যানার্জি-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।সমাজসেবী আশিস ব্যানার্জি বলেন, “রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা নাট্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও আয়োজন করে। তারই অন্যতম এই রাখিবন্ধন উৎসব।

এই হিন্দুত্বের পুণ্য তিথিতে রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার এই অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য সংস্থার সকলকে ধন্যবাদ জানান। ”অন্যদিকে, রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার পরিচালক বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য বলেন, “মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন, সকলের সঙ্গে সকলের মিলন এবং আগামী প্রজন্মকে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দিতেই এই অনুষ্ঠান। ”সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন সংস্থার সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন ঋতুপর্ণা মুখার্জী, শিবানন্দ মণ্ডল, দেবব্রত মজুমদার, দিয়া দাস, শ্রাবন্তীকা ঘোষ-সহ রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার বহু নাট্যকর্মী। ৩২ বছরের নাট্যচর্চার ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে রাখির সুতোয় মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে রবীন্দ্র নাট্য সংস্থার সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *