পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : খাদ্যের গুণমান, স্বাস্থ্যবিধি ও সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগদায় সক্রিয় হল প্রশাসন। দীর্ঘ সময় পর বাগদা পুরাতন ও নতুন বাজারের একাধিক বিরিয়ানি, ফাস্টফুড ও মিষ্টির দোকানে যৌথ অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও বাগদা ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তর। প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাগদা পুরাতন বাজারের আশীর্বাদ বিরিয়ানি, তাপস ফাস্টফুড, বাগদা হাইস্কুল সংলগ্ন একাধিক ফাস্টফুডের দোকান এবং বাগদা নতুন বাজারের পান্ডে মিষ্টান্ন ভান্ডার-সহ বেশ কয়েকটি খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাগদা ব্লকের জয়েন্ট বিডিও দিবাকর পাল, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকবৃন্দ এবং বাগদা থানার পক্ষ থেকে এএসআই এস. কে. মোশারফ আলী-সহ পুলিশকর্মীরা।

পরিদর্শন চলাকালীন বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পদ্ধতি, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ত্রুটি নজরে আসে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। সেই সমস্ত অনিয়মের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের অভিযান হিসেবে নয়, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা।

তাঁদের মতে, বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যের গুণমান নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকলে একদিকে যেমন ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে সৎ ও নিয়ম মেনে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হবেন।

অভিযান প্রসঙ্গে বাগদা ব্লকের জয়েন্ট বিডিও দিবাকর পাল বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, ডিএম ম্যাডাম ও মহকুমা শাসকের নির্দেশক্রমে ব্লকের তিন দপ্তর—সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তর, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আজকের কর্মসূচি সফল হয়েছে।”

প্রশাসনের এই ধরনের নিয়মিত নজরদারি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন বাগদার সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, খাদ্য মানুষের মৌলিক প্রয়োজন; তাই খাদ্যের গুণমান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস নয়।

প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে আরও নিরাপদ খাদ্য-বাজার। তারা আরও বলেন, প্রশাসনের তদন্ত চলাকালীন অনেক দোকানদার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যাওয়াতে তদন্ত প্রক্রিয়া অসমাপ্ত থেকে গেল।





















Leave a Reply