পারফেক্ট টাইম নিউজ, কলকাতা : পূর্বপুরুষদের স্মরণ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আবহে গত ১০ অক্টোবর কলকাতার রামমোহন রায় রোডে শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠে অনুষ্ঠিত হল গণতর্পণ। ভাদুড়ি মহাশয় অর্থাৎ পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের শেষ জীবনের সাধনভূমিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে নিজেদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ নিবেদন করেন। সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা, শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ ও নগেন্দ্র মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের সাধনাময় জীবন, আদর্শ ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদিত হয়।
মহাযোগী পরমহংস যোগানন্দের বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘অটোবায়োগ্রাফি অব আ যোগী’-তে উল্লেখের সূত্রে ভাদুড়ি মহাশয় ‘দ্য লেভিটেটিং সেইন্ট’ নামে আজ সারা পৃথিবীতে প্রণম্য। ১৮৯১ সালে এই ভাদুড়ি মহাশয় সনাতন ধর্মের প্রচার, প্রসার এবং তার রীতিনীতি ও পরম্পরা সংরক্ষণের আদর্শে সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা, সাধনার গভীরতা এবং ঐতিহ্য রক্ষার ভাবনা—মহর্ষিদেবের জীবনদর্শনের এই দিকগুলি আজও তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে শ্রদ্ধা এবং প্রেরণার উৎস।
এই পর্বের পরিকল্পনা ও সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন নগেন্দ্র মিশনের সভাপতি গৌরহরি শাসমল এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের সম্পাদক ড. রবীন্দ্রনাথ কর এই আয়োজন প্রসঙ্গে জানান, মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের আদর্শকে সামনে রেখেই অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি মহর্ষির জীবন ও সাধনার সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধকে স্মরণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম দিক।
মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের প্রপৌত্রীর পুত্র, পুরাণ গবেষক ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই আয়োজনের অন্তর্নিহিত ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে, পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ সারা ভারতজুড়ে সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তাই সনাতন ধর্মের রীতিনীতি এবং প্রথা রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই গণতর্পণের আয়োজন তারই একটি অঙ্গ।”
নগেন্দ্র মঠে অনুষ্ঠিত এই গণতর্পণ তাই পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি এক সাধকের স্মৃতি ও আদর্শকে সম্মান জানানোরও উপলক্ষ হয়ে ওঠে। মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত সাধনভূমিতে এই সমবেত শ্রদ্ধার্ঘ্য যেন পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর জীবনাদর্শ ও সনাতন ধর্মের পরম্পরা সংরক্ষণের অঙ্গীকারকেও নতুন করে সামনে আনল।





















Leave a Reply