পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব বাগদা গড়ার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আজ দুপুরে বাগদার ডিহিহলদহে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন হল ‘Solid Waste Management’(কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্পের। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যে এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, সেই বাস্তবতার মাটিতেই এই প্রকল্পের সূচনা নতুন আশার বার্তা বহন করছে।

জানা যায়, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে আনুমানিক ৯৯,৯৭০ টাকা ব্যয়ে বাগদাহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে প্রকল্পটি সম্পাদিত হয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হল কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনবল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলাকায় সংগৃহীত বর্জ্যকে একটি সুসংবদ্ধ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) ড. সুজয় সিকদার। উপস্থিত ছিলেন, বাগদার বিডিও অখিল মণ্ডল, জয়েন্ট বিডিও দিবাকর পাল, পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সৌরভ গয়ালী, সমাজসেবক দিবাকর তরফদার, গণেশ বিশ্বাস, আনন্দ অধিকারী, অভিজিৎ সরকার, দিলীপ ঘোষ, সন্তোষ বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সদস্যা মিনতী অধিকারী, বিদ্যুৎ অধিকারী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভারত মাতার বন্দনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর প্রকল্পের কর্মীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে ধানের তুষ দিয়ে নির্মিত স্বামী বিবেকানন্দের আবক্ষ প্রতিকৃতি। প্রকল্পের ভিসিটি প্রতিমা দেবী নিজ হাতে সেই শিল্পকর্মটি তুলে দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) ড. সুজয় সিকদারের হাতে।

এরপর সবুজ সংকেতের পরিবর্তে কার্যত পরিচ্ছন্নতার অভিযাত্রার সংকেত দিয়ে পতাকা নাড়িয়ে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রকল্পের যানবাহনগুলির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, বিডিও, জয়েন্ট বিডিও-সহ উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।‘বেশভূষা নয়, এলাকার পরিচ্ছন্নতাই উন্নয়নের অন্যতম পরিচয়’অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) ড. সুজয় সিকদার, বিডিও অখিল মণ্ডল, জয়েন্ট বিডিও দিবাকর পাল এবং সমাজসেবক দিবাকর তরফদাররা কার্যত একই সুরে তুলে ধরেন পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব।

তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম—একটি এলাকা কতটা উন্নত, তা শুধু মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ কিংবা চকচকে রাস্তা-ঘাট দেখেই বিচার করা যায় না; সেই এলাকার পরিবেশ কতটা পরিচ্ছন্ন, বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা সচেতন—উন্নয়নের প্রকৃত ছবির অন্যতম মাপকাঠি সেখানেই।এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাগরপুর ও সংলগ্ন এলাকার পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বাড়ি-ঘর ও দৈনন্দিন জীবন থেকে উৎপন্ন বর্জ্যকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বক্তাদের কথায়, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যে বর্জ্য আজ পরিবেশের বোঝা, ভবিষ্যতে সেটিই পরিণত হতে পারে সম্পদে।তবে প্রকল্পের সাফল্য কেবল প্রশাসন বা প্রকল্পকর্মীদের উপর নির্ভরশীল নয়—এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতাই এই উদ্যোগের প্রকৃত চালিকাশক্তি। বাড়ির বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন হওয়া এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এক কথায়, ডিহিহলদহে এই প্রকল্পের উদ্বোধন শুধু একটি বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সূচনা নয়; বরং ‘বর্জ্যকে বোঝা নয়, সম্পদে রূপান্তর’ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশকে উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন বাগদা বিডিও অফিসের পরিবেশ দপ্তরের আধিকারিক নির্মল চক্রবর্তী।





















Leave a Reply