পারফেক্ট টাইম সাহিত্য ডেস্ক, রানাঘাট : রবিবারের দুপুর। নির্মীয়মান গোপীনাথ জোয়ারদার মেমোরিয়াল হল জুড়ে কবিতা ও সাহিত্যের ব্যস্ততা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছেন কবি-সাহিত্যিকেরা। এই আবহেই অনুষ্ঠিত হল মফস্বল বাংলা সাহিত্য আকাদেমি-র ২৭তম কবি সম্মেলন। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সাহিত্য-আসরে যোগ দেন প্রায় ৫০ জন কবি-সাহিত্যিক।
কবিতা পাঠের পাশাপাশি এদিন ছিল প্রকাশনার পর্বও। প্রকাশিত হয় হৈমন্তী জোয়ারদার সম্পাদিত ‘নৈবেদ্য’ পত্রিকার শারদ সংখ্যা এবং হরিসাধন জোয়ারদার ও মানিক গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘অভিনন্দন’ পত্রিকার শারদ সংখ্যা। পত্রিকার পাতায় যেমন ছিল নতুন লেখার সম্ভাবনা, তেমনই সম্মেলনের মঞ্চে ছিল কবিতার স্বর ও সাহিত্য নিয়ে ভাববিনিময়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র-গবেষক ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কবি সুভাষচন্দ্র চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট কবি ভাস্কর মজুমদার, গৌরাঙ্গকৃষ্ণ দে, মিহির কুমার রায় ও দীপিকা সাহা-সহ অন্যান্য কবি-সাহিত্যিক।

মফস্বল বাংলার সাহিত্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এদিন ‘মফস্বল বাংলার শারদ সাহিত্য সম্মাননা’ প্রদান করা হয় কবি ও সাহিত্যিক রবিন বিশ্বাস, সাহিত্যিক গৌতম পাত্র এবং অঞ্জনা চক্রবর্তীকে। সম্মেলনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ছিল কবি হরিসাধন জোয়ারদার-এর রচিত ‘সাহিত্যে উজ্জ্বল রবিন বিশ্বাস’ শীর্ষক বৃহৎ সমালোচনা গ্রন্থের প্রকাশ।
একই মঞ্চে আকাদেমির তত্ত্বাবধানে কবি ভবানী মিত্র-কে প্রদান করা হয় ‘বাসন্তিকা সাহিত্য সম্মান’। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কবিদের কবিতা পাঠ, আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ে ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সম্মেলন। মফস্বল বাংলার সাহিত্যচর্চার বর্তমান পরিসর, কবিতার নানা প্রবণতা এবং সৃষ্টিশীলতার পথ নিয়ে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক আন্তরিক সাহিত্যিক আবহ।সমগ্র আয়োজনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন আকাদেমির সভাপতি কবি হরিসাধন জোয়ারদার।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন তমালিকা জোয়ারদার। সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী তনিমা সাহা। পত্রিকা প্রকাশ, গ্রন্থপ্রকাশ, সম্মাননা ও কবিতা পাঠ—সব মিলিয়ে রবিবারের দুপুরে আনুলিয়া হয়ে উঠেছিল মফস্বল বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের এক প্রাণবন্ত মিলনভূমি।























Leave a Reply