পারফেক্ট টাইম সাহিত্য ডেস্ক : ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের দোলপূর্ণিমায় প্রকাশিত ‘সত্যপ্রদীপ’-এর অষ্টাদশ বার্ষিক সংখ্যা বিষয়বৈচিত্র্য ও ভাবগভীরতায় নিঃসন্দেহে সমৃদ্ধ। ১৮৮১ সালে সনাতন ধর্মের প্রচার এবং প্রসারের উদ্দেশ্যে ‘দ্য লেভিটেটিং সেন্ট’ রূপে সারা পৃথিবীতে বন্দিত ভাদুড়ি মহাশয়, অর্থাৎ মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ, এই আধ্যাত্মিক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ করেন। এই পত্রিকাটির বর্তমান সংখ্যায় সাহিত্য, পরমার্থচিন্তা, ব্রহ্মচর্য, শরীরপালন, সাধনজীবন, প্রকৃতি, রবীন্দ্রভাবনা, দোলউৎসব ও উপনিষদ—বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে।
এই সংখ্যার অন্যতম উজ্জ্বল উদ্ধার ভাদুড়ি মহাশয়, অর্থাৎ পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ-বিরচিত ‘পরমার্থ সঙ্গীতাবলী’। অন্যদিকে, সাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি প্রার্থনা’, অপরাজিতা দাসের ‘বিবেকশক্তি’, গীতা সিংহ ভারতীর ‘মোহন অমৃত নামটি তোমার’, অপর্ণা দাসের ‘উত্তরণ’ এবং রামচন্দ্র ধাড়ার ‘ভালোমন্দ’ কবিতাগুলি এই পত্রিকার সাহিত্যপর্বকে আক্ষরিক অর্থেই সমৃদ্ধ করেছে।

শ্রীমৎ ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর ‘অল্পকথায় ব্রহ্মচর্য’, শ্রীমৎ ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর ‘মহাত্মা তৈলঙ্গস্বামী-শিষ্যা শঙ্করীমা’ এবং শিবানী ভট্টাচার্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রীমৎ ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারী : স্মরণের আলোয়’ রচনায় সাধনা ও স্মরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি ড. প্রজ্ঞারঞ্জন দত্ত বাচস্পতির ‘মহাযোগী শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’ এবং ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরমহংস মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ এবং তাঁর পাঁচ শিষ্য’ এই সংখ্যাটির বিশেষ আকর্ষণ।
ড. সত্যনারায়ণ দাসের ‘প্রকৃতির রহস্য’, ড. বিশ্বব্রত মহাকুলের ‘নৈবেদ্য : রবীন্দ্রভাবনায় অন্তর্যামী’, সাবিত্রী দত্তের ‘দোলউৎসব ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’ এবং ড. রবীন্দ্রনাথ করের ‘উপনিষদ থেকে’ সংখ্যাটির বিষয়পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। শেষে ‘মঠ ও মিশন সংবাদ’, ‘১৪৩৩ সালের অনুষ্ঠান’ এবং ‘মঠ ও মিশনের প্রকাশনা’ পত্রিকাটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ড. রবীন্দ্রনাথ করের সুসম্পাদিত কলকাতার শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের মুখপত্র ‘সত্যপ্রদীপ’-এর অষ্টাদশ বার্ষিক সংখ্যা কবিতা, পরমার্থ, সাধনা, প্রকৃতি, রবীন্দ্রভাবনা ও উপনিষদচিন্তার এক সুন্দর সমন্বয়। বিষয়ের বৈচিত্র্য এবং ভাবের গভীরতা এই সংখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্য।





















Leave a Reply