ড. বি.আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে ‘বিকশিত ভারতে ‘নেশামুক্ত যুবসমাজ গড়ার বার্তা’-

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : ‘বিকশিত ভারতের জন্য নেশামুক্ত যুবসমাজ’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে ড. বি.আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের সহযোগিতায় কলেজের এনএসএস (NSS) ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিকশিত ভারতের নেশামুক্ত যুবসমাজ’। ১০০-সপ্তাহব্যাপী নেশামুক্তি অভিযানেরই একটি অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের অপব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা, নেশার কবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখা এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ নির্মাণের সংকল্প গ্রহণই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

একই সঙ্গে নেশামুক্ত যুবসমাজকে বিকশিত ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।কর্মসূচিতে যুবসমাজের উদ্দেশে উঠে আসে দৃঢ় ও ইতিবাচক বার্তা—“আসুন, আমরা সবাই মিলে জীবনকে ‘হ্যাঁ’ বলি এবং মাদককে ‘না’ বলি!” এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ড. বি.আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. চিত্তরঞ্জন দাস, বনগাঁর পুলিশ সুপার শ্রীমতি বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত, আইপিএস, বাগদার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শ্রী রাম কুমার মণ্ডল, ডব্লিউবিপিএস, এবং বাগদা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী রাখোহরি ঘোষ।

তাঁদের উপস্থিতি ও বক্তব্য নেশামুক্তি-সংক্রান্ত সচেতনতা কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। মোট ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়, যুবসমাজের মধ্যে নেশার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষাঙ্গন থেকেই যদি নেশামুক্ত সমাজ গড়ার সংকল্প আরও দৃঢ়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আগামী প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ জীবনযাপন, ইতিবাচক মানসিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনা আরও শক্তিশালী হবে।এই উদ্যোগকে সফল ও সার্থক করে তুলতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, সেই সকল বিশিষ্ট অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *