পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ার প্রত্যয়ে দেশজুড়ে চলা ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর বার্তাকে সামনে রেখে এবার সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন বাগদা ব্লক এক্স-সার্ভিসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সংগঠনের উদ্যোগে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সাফাই অভিযান।

এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা শুধু হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের বার্তাও পৌঁছে দেন।

হাসপাতালের বাউন্ডারির অভ্যন্তরের রাস্তা, পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং রোগী ও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি আবর্জনা যথাস্থানে ফেলার বিষয়েও সচেতন করা হয়।

সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, পরিচ্ছন্ন সমাজ ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা শুধুমাত্র প্রশাসন বা কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ নির্মাণ সম্ভব। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবনা থেকেই এই সাফাই অভিযানের উদ্যোগ বলে জানান তাঁরা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশের সুরক্ষায় দীর্ঘদিন নিজেদের দায়িত্ব পালন করার পর অবসরজীবনেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছেন এই প্রাক্তন সেনাকর্মীরা।

তাঁদের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন স্বচ্ছতার বার্তা আরও জোরালো হয়েছে, তেমনই হাসপাতাল ও তার পার্শ্ববর্তী পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরির ইতিবাচক প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

এই সাফাই অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন বাগদা ব্লক এক্স-সার্ভিসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হরষিত বাগচি, ভাইস-চেয়ারম্যান আনন্দ অধিকারী, সভাপতি সুভাষ মণ্ডল, সহ-সভাপতি নির্মল কাঞ্জিলাল, সেক্রেটারি মৃণাল কান্তি বিশ্বাস, সহ-সেক্রেটারি শ্যামল মজুমদার, কনভেনার নেপাল বিশ্বাস, ক্যাশিয়ার দীপক পাল, ক্যাশিয়ার (২) রমেশ বিশ্বাস, নারী শক্তির সদস্য মনজু রায়, বিভা মণ্ডল-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের এই সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডাঃ দেবাংশু সরকার। তিনি উপস্থিত সেনাকর্মীদের এই ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

সামরিক জীবনে দেশের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন এবং অবসরজীবনে সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বাগদার সামাজিক পরিসরে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

‘স্বচ্ছ ভারত’-এর ভাবনাকে বাস্তব জীবনের কর্মপ্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





















Leave a Reply