পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র দামোদর মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

‘সেবা সংকল্প’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সরকারি সূত্রেও ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচিরই অংশ হিসেবে বাগদায় বিজেপির মণ্ডল-১-এর উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো।

‘স্বপ্নের ভারত’ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ইনচার্জ গণেশ বিশ্বাসের উদ্যোগে বাগদার দুটি হাই স্কুল পরিদর্শন করেন বিজেপির বাগদা মণ্ডল-১-এর সভাপতি দিবাকর তরফদার, সহ-সভাপতি গণেশ বিশ্বাস, সম্পাদক অভিজিৎ সরকার-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

তবে এদিনের কর্মসূচিতে বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী। ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও মানবতাবাদী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

নারীশিক্ষার প্রসার, বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজজাগরণের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

এই আবহেই বাগদা ও বাকসা হাই স্কুলে পৌঁছে বিজেপি মণ্ডল-১-এর প্রতিনিধিরা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।

তাঁর জীবন, শিক্ষা-ভাবনা, সমাজসংস্কার ও মানবিক আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।বিদ্যালয় চত্বরে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সামনে বিদ্যাসাগরের জীবনাদর্শ ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষা যে কেবল পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজকে আলোকিত ও মানবিক করে তোলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার—বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্ম সেই বার্তাই বহন করে বলে উপস্থিত বক্তারা উল্লেখ করেন।

একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের জনজীবন ও প্রশাসনিক কর্মকালের পরিপ্রেক্ষিতে ‘সেবা সংকল্প’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর বার্তা, অন্যদিকে বিদ্যাসাগরের শিক্ষা, মানবিকতা ও

সমাজ সংস্কারের আদর্শ—দুই ভিন্ন সময়ের দুই ধারাকে সামনে রেখে এদিনের কর্মসূচি বাগদার শিক্ষা মহলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শিক্ষাঙ্গনে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, সমাজসংস্কারকদের জীবনাদর্শ এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।






















Leave a Reply